Gangarampur Tremendous Specialty Hospital | ডায়ালিসিস নিয়ে দিনভর হয়রানি, নাজেহাল রোগীরা

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


রাজু হালদার, গঙ্গারামপুর: এ যেন রোগীদের স্বাস্থ্য নিয়ে টানাটানি। নিয়মিত যাঁদের ডায়ালিসিস চলে, তাঁদের জীবন নির্ভর করে থাকে সঠিক সময়ে করা ডায়ালিসিসের ওপরেই। গঙ্গারামপুর সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে (Gangarampur Tremendous Specialty Hospital) বুধবার হঠাৎ ডায়ালিসিস পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল রোগী ও তাঁদের পরিজনদের মধ্যে। নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। দূরদূরান্ত থেকে আসা মুমূর্ষু রোগীদের জন্য অন্য জায়গায় ডায়ালিসিসের খোঁজ শুরু করেন তাঁদের পরিবার। শেষমেশ অবরোধের জেরে হাসপাতালে ডায়ালিসিস শুরু হয় বটে, তবে এর জেরে রোগীদের দিনভর চূড়ান্ত ভোগান্তির শিকার হতে হল।

তবে ঠিক কি কারণে ডায়ালিসিস পরিষেবা বন্ধ হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি গঙ্গারামপুর সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের ইনচার্জ ডঃ বাবুসোনা সাহা। এমনকি মুখে কুলুপ স্বাস্থ্য দপ্তরেরও। তবে এদিন বিকেলে ডায়ালিসিস পরিষেবা চালু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ দাস। হাসপাতালে পিপিপি মডেলে ডায়ালিসিস পরিষেবা দেওয়া হয়। তবে সূত্রের খবর, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মীদের কাজের টাকা বাকি থাকার সমস্যার কারণেই কাজ বন্ধ করা হয়। আবার কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে পরিষেবা বন্ধ ছিল বলেও হাসপাতালের একাংশ জানিয়েছে। যদিও কর্মীরা কেউ এ নিয়ে কিছুই বলেননি। অন্যদিকে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পরিষেবা চালু না হওয়ায় রোগীর স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ জমতে থাকে। একসময় বাধ্য হয়ে পরিষেবা স্বাভাবিক করার দাবিতে হাসপাতাল সংলগ্ন ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। ফলে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। অবশেষে প্রশাসনিক তৎপরতায় বিকেল প্রায় ৪টে নাগাদ ডায়ালিসিস পরিষেবা পুনরায় চালু হয়। তবে এদিন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ডায়ালিসিস পরিষেবা অচল হয়ে পড়ায় জেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড়ো প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে কুশমণ্ডির বাসিন্দা শ্যামল ঘোষ বলেন, ‘আমাদের এক-দু’দিন অন্তর ডায়ালিসিস করাতে হয়। সময়মতো ডায়ালিসিস না করাতে পেরে অনেক রোগীর মৃত্যুও হয়েছে। এদিন নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে এসে জানতে পারি ডায়ালিসিস বন্ধ। কোনও কারণও আমাদের জানানো হয়নি। তাহলে এই সমস্যার খেসারত আমাদের কেন দিতে হবে?’ এমনকি প্রয়োজনের খাতিরে বালুরঘাটে গিয়ে ডায়ালিসিস করানোর কথাও ভেবেছিলেন শ্যামল। সেখানে ফোন করে জানা যায় প্রচুর ভিড় রয়েছে, রাত দশটার পরও ডায়ালিসিস হতে পারে। আবার বেসরকারি হাসপাতালে ডায়ালিসিস করানো সম্ভব হলেও তার খরচ বহন করা অনেকের পক্ষেই কঠিন। অন্যদিকে, পূর্ণিমা বর্মনের অভিযোগ, ‘যে সংস্থা ডায়ালিসিস পরিষেবা পরিচালনা করে, তাদের সঙ্গে সরকারের কোনও সমস্যা হয়েছে কি না আমরা জানি না। কিন্তু পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়তে হয়েছে। অনেকের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকলেও তা ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারছেন না। আবার অনেকের এখনও আয়ুষ্মান ভারত কার্ড হয়নি। ফলে বাইরে গিয়ে ডায়ালিসিস করানোর সুযোগও নেই।’ বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরেও কোনও সদুত্তর মেলেনি বলে জানান অনেকে। তাই রোগীর পরিজনদের কথায়, বাধ্য হয়েই তাঁরা এদিন পথ অবরোধ করেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *