রাজু হালদার, গঙ্গারামপুর: বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) (BLO) এবং তাঁর পরিবারের নাম ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নেই। তাহলে তিনি কী করে বাকিদের তথ্য যাচাই করবেন? এমন প্রশ্ন তুলে বিএলও পরিবর্তনের দাবি তুলল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল (TMC)। ঘটনাটি ঘটেছে গঙ্গারামপুরে (Gangarampur)। যদিও এর মধ্যে অন্যায় কিছু দেখছে না বিজেপি। এমন যুক্তিতে যে বিএলও পরিবর্তন সম্ভব নয়, স্পষ্ট করে দিয়েছে ব্লক নির্বাচনি দপ্তরও। তবে বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে গঙ্গারামপুর ব্লকে।
তৃণমূল ও বিজেপির বাগযুদ্ধের মধ্যে রাজ্যের সর্বত্র কার্যকর হয়েছে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)। মঙ্গলবার থেকে বাড়ি বাড়ি ফর্ম দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন বিএলও-রা। ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব তাঁদের। এমনই এক বিএলও-কে নিয়ে প্রশ্ন তুলল তৃণমূল। গঙ্গারামপুর ব্লকের ৩/২ বেলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব ঠ্যাঙ্গাপাড়া ১৯৬ নম্বর বুথের বিএলও-র দায়িত্ব দীর্ঘদিন ধরে সামলাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা তথা প্রাথমিক শিক্ষক বিকাশ সরকার। এসআইআরের ক্ষেত্রেও তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিএলও এবং তাঁর পরিবারের কারও নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই বলে তৃণমূলের অভিযোগ। এমন অভিযোগ তুলে পূর্ব ঠ্যাঙ্গাপাড়া বুথের তৃণমূল সভাপতি স্বপন বসাক বলেন, ‘যার নিজের বা পরিবারের নাম নির্দিষ্ট ভোটার তালিকায় নেই, তিনি অন্যের নাগরিকত্বের নথি খতিয়ে দেখতে পারেন? তদন্ত করে সঠিক লোককে বিএলও নির্বাচনের দাবি জানাব প্রশাসনের কাছে।’ যদিও বিজেপির গঙ্গারামপুর শহর মণ্ডল সভাপতি বৃন্দাবন ঘোষ মনে করেন, ‘২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বিএলও-র নাম আছে, কী নেই, তা কোনও বিষয় নয়। সরকারিভাবে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর যাবতীয় নথি পরীক্ষা করেই তো সরকার চাকরি দিয়েছে। সমস্যা কোথায়?’
বিএলও বিকাশের বক্তব্য, ‘২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার এবং পরিবারের কারও নাম নেই সঠিক। কিন্তু তার আগের লিস্টে বাবার নাম রয়েছে। হয়তো কোনও কারণে বাদ পড়েছে। সেই সংক্রান্ত যাবতীয় নথি রয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিজেকে প্রমাণ করার জন্য যে সমস্ত নথি প্রয়োজন, সবই আমার কাছে আছে।’ এবিষয়ে গঙ্গারামপুর ব্লকের বিডিও অর্পিতা ঘোষাল বলেন, ‘বিএলও নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট গাইডলাইন আছে। তা মেনেই এসআইআরের জন্য বিএলও নিয়োগ করা হয়েছে। এসআইআরের কাজও হবে।’
