শিলিগুড়ি: দীর্ঘ ২৭ বছরের ঐতিহ্য বজায় রেখে শিলিগুড়ির (Siliguri) হাকিম পাড়ার (Hakimpara) বণিক বাড়িতে নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হলো মা গন্ধেশ্বরীর পুজো (Gandheswari Puja)। প্রতি বছরের মতো এবারও বৈশাখী পূর্ণিমার পুণ্য তিথিতে দেবী আরাধনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় উৎসবের মেজাজ তৈরি হয়। মৌসুমী বণিকের পরিচালনায় আয়োজিত এই পুজোয় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের অগণিত ভক্তের সমাগম ঘটে।
গন্ধেশ্বরী পুজো মূলত গন্ধবণিক সম্প্রদায়ের কুলদেবীর আরাধনা। দেবী গন্ধেশ্বরীকে দেবী দুর্গারই একটি বিশেষ রূপ বলে মানা হয়। সিংহবাহিনী ও চতুর্ভুজা এই দেবীর মূর্তিতে দুর্গা বা জগদ্ধাত্রীর আদল স্পষ্ট। ব্যবসায়িক শ্রীবৃদ্ধি এবং সুগন্ধি দ্রব্যের সমৃদ্ধির কামনায় এই পুজো করা হয়। বণিক পরিবারের সদস্যদের মতে, এই পুজোর শেকড় বাংলাদেশে। সেখানে ১০০ বছরেরও বেশি সময় আগে তাঁদের পূর্বপুরুষরা এই পুজোর প্রচলন করেছিলেন। দেশভাগের পর এদেশে চলে এলেও সেই প্রথা বিলীন হতে দেননি তাঁরা। হাকিম পাড়ায় গত ২৭ বছর ধরে সেই সাবেকিয়ানা মেনেই পুজো চলছে।
পুজোর আয়োজক সুমিত বণিক জানান, “আমাদের এই পুজো বহু প্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ। পূর্বপুরুষদের শুরু করা এই পুজো আজও আমরা একই প্রথা মেনে চালিয়ে যাচ্ছি। বিশেষ করে ডাব দিয়ে ভোগ নিবেদন এবং মানত পূরণের জন্য ভক্তদের ভিড় চোখে পড়ার মতো।”
এদিন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা যেমন কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এমনকি প্রতিবেশী রাজ্য অসম এবং দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও ভক্তরা এই পুজোয় সামিল হন। একদিনের এই পুজোকে কেন্দ্র করে বণিক বাড়ি কার্যত একটি মিলনমেলার রূপ নেয়। ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের এই মেলবন্ধন আগামী দিনে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে বলে আশাবাদী আয়োজকরা।
