উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ গাইঘাটায় নাবালিকা কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশ ‘এনকাউন্টার’-এ মৃত্যুর (Gaighata Encounter) তত্ত্ব দিলেও, এই ঘটনায় প্রশ্ন তুলে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন মৃত প্রহ্লাদের মা রেখা দাস। অন্যদিকে, ছেলের অপরাধের কথা স্বীকার করলেও এই ধরনের নৃশংস মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছেন না তাঁর বাবাও। সোমবার মধ্যরাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময়ে হাত বাঁধা থাকা সত্ত্বেও প্রহ্লাদ কীভাবে পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিল, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে পরিবার।
গত সোমবার রাতে পুলিশ যখন অপরাধের পুনর্নির্মাণের জন্য প্রহ্লাদকে বাড়িতে নিয়ে এসেছিল, সেই সময়ের প্রসঙ্গ টেনে তার মা রেখা দাস বলেন, “রাত দুটোর সময় যখন ছেলেকে বাড়ি আনল, তখন ওর হাত বাঁধা ছিল। সঙ্গে পাঁচজন পুলিশ অফিসার ছিল। কী করে ও পিস্তল বার করে গুলি করবে? আপনারা একটু ভেবে দেখুন তো!” তাঁর দাবি, প্রহ্লাদ শান্ত স্বভাবের ছিল এবং সে পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালাবে, তা তাঁরা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। ছেলের মৃত্যুর বিচার ও ন্যায়সংগত তদন্তের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ছেলের এই পরিণতি নিয়ে প্রহ্লাদের বাবা রামপ্রসাদ দাস কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, “আমার কলজেটা ফেটে যাচ্ছে! জানি আমার ছেলে মারাত্মক অন্যায় করেছে, যার মাফ হয় না।” তবে আইনের পথ ছেড়ে এভাবে পুলিশি এনকাউন্টার বা মৃত্যুর ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। ময়নাতদন্তের পর মঙ্গলবার রাতে পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়া হলে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, গত শনিবার রাতে গাইঘাটায় ১৭ বছরের এক কিশোরীকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। ওই ঘটনায় রবিবারই নিহতের আত্মীয় প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর মঙ্গলবার ভোররাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণ শেষে থানায় ফেরার পথে বৈদ্যবাড়ি এলাকার কাছে প্রস্রাব করার নাম করে গাড়ি থামাতে বলে প্রহ্লাদ। সেই সুযোগে সে কর্তব্যরত এক পুলিশকর্মীর বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে তিন রাউন্ড গুলি চালায় বলে অভিযোগ।
পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার তাগিদে চার রাউন্ড গুলি চালায় পুলিশও, যার একটি লাগে প্রহ্লাদের গায়ে। এরপর চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে এক পুলিশকর্মীও জখম হন। তবে অপরাধী হওয়া সত্ত্বেও বিচার প্রক্রiyas না চালিয়ে এই ধরনের ‘এনকাউন্টার’-এর সত্যতা নিয়ে এখন প্রশ্ন তুলেছে ধৃতের পরিবার ও বিভিন্ন মহল।

