ফুলবাড়ি: শামুক দিয়ে তৈরি রেসিপি রাজবংশী সমাজে বড়ই জনপ্রিয়। তাদের ঐতিহ্য-ট্র্যাডিশনও বটে। প্রতিটি রাজবংশী বাড়িতে শামুক দিয়ে রেসিপি থাকা যেন মাস্ট। কিন্তু, স্থানীয় এলাকায় শামুক আগের মতো পাওয়া যায় না। তাই পাইকারদের হাত হয়ে বাইরে থেকে বাজারে আসা শামুকই ভরসা ভোজনরসিকদের।
শীতের সূচনায় মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের ফুলবাড়ি ও বড় শৌলমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন বাজারে বাইরে থেকে আনা শামুক বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার ছিল ফুলবাড়ি বাজারের হাটবার। সেখানে শামুক বিক্রি করছিলেন নবগঞ্জের বিজেন দাস। তিনি জানালেন, স্থানীয় এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ শামুক আর পাওয়া যায় না। মেখলিগঞ্জ ব্লকের জামালদহ বাজারে প্রচুর শামুক বিক্রি হয়। সেখান থেকেই এনে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি চলে। পাইকারি দরে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) শামুক ২৪০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। পাইকাররা কিনে বিভিন্ন বাজারে সেই শামুক প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে বিক্রি করেন। চাহিদা ভালো থাকায় শামুকের বিক্রিও ভালো হয়।
এদিন বাজারে আসা ক্রেতা জ্ঞানেন্দ্র বর্মন এবং বাবলু বর্মন বলেন, আমাদের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবারের মধ্যে একটি হল শামুকের পদ। যা যত্ন সহকারে রান্না করা হয়। খেতেও বেশ সুস্বাদু। কিন্তু শামুক এখন আগের মতো পাওয়া যায় না বলে শামুকের পদও বাড়িতে রান্না কমে গিয়েছে।
রমেশ বর্মন নামে এক ক্রেতা জানালেন, এক সময় বর্ষাকাল ও তার পরবর্তী সময়ে স্থানীয় দোলা জমিতে (নীচু জমি) অনেক শামুক পাওয়া যেত। কিন্তু সেইসব জমি আবাদি জমিতে পরিণত হওয়ায় শামুক বিলুপ্তের পথে। আরেক ক্রেতা সদানন্দ বর্মন বলেন, বর্ষার চেয়ে শীতকালের শামুকের স্বাদ বেশি। তাই কিনে নিচ্ছি। বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ভালো করে রান্না করে খাওয়া হবে।
জামালদহ বাজারে এখনও প্রচুর পরিমাণে শামুক বিক্রি হয়। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ধরলা ও শিউলি নদীতে এখনও প্রচুর পরিমাণে শামুক পাওয়া যায়। বাজারে শামুকের চাহিদা ও নিজেদের রোজগারের কথা মাথায় রেখে অনেকেই নদীগুলি থেকে শামুক সংগ্রহ করে জামালদহ বাজারে বিক্রি করেন। আর সেখান থেকেই বিভিন্ন পাইকারের মাধ্যমে সেই শামুক চলে যায় গ্রামগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে।
