রায়গঞ্জ: তোলাবাজি, বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, পুকুর ভরাট, জমি দখল ও মস্তানরাজের একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন রায়গঞ্জের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ সরকার ওরফে লিটন (Former TMC Councillor Arrested Raiganj)। রায়গঞ্জ পুরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের এই দাপুটে প্রাক্তন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) অস্ত্র আইন-সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। শনিবার তাঁকে রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (CJM) আদালতে তোলা হলে বিচারক তদন্তের স্বার্থে ৩ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এদিন মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। রায়গঞ্জ সিজেএম আদালতের সরকারি আইনজীবী নীলাদ্রি সরকার জানান, “ধৃতের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন সহ একাধিক অ-জামিনযোগ্য ধারায় মামলা করা হয়েছে। বিচারক তাঁকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।” এই বিষয়ে রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ডঃ সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ জানান, “ধৃত প্রসেনজিৎ সরকারের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। তাকে হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হবে।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালে রায়গঞ্জ পুরসভায় শাসকদলের দাপট বাড়ার পর থেকেই প্রসেনজিতের বেআইনি কার্যকলাপ চরম আকার ধারণ করে। জোরপূর্বক জমি দখল, বেআইনি মাটির কারবার, মস্তানি ও সাধারণ মানুষের ওপর তোলাবাজির অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। চলতি সপ্তাহেই তাঁর বিরুদ্ধে পুনরায় মারধর ও তোলাবাজির নতুন অভিযোগ জমা পড়ে রায়গঞ্জ থানায়। শুক্রবার সাড়ে সাতটা নাগাদ পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদের সময় বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি থাকায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। এলাকায় ‘নদো-বাপী’ জমানার পর প্রভাবশালী লিটনের এই গ্রেফতারিতে জোর তোলপাড় শুরু হয়েছে রায়গঞ্জের রাজনৈতিক ও নাগরিক মহলে।

