উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: সরকারি ত্রাণ সামগ্রী চুরি, তোলাবাজি সহ একাধিক অভিযোগে তারকেশ্বরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রামেন্দু সিংহরায়কে (Ramendu Singha Roy) শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার (Former MLA arrested) করল পুলিশ। অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। অবশেষে কর্ণাটক থেকে তাঁকে পাকড়াও করল ধনেখালি থানার পুলিশ।
গত ১১ জুন হুগলির ধনেখালিতে রামেন্দু সিংহরায়ের মালিকানাধীন একটি বিএড কলেজে হানা দিয়ে পুলিশ বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার করে। অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের ত্রিপল থেকে শুরু করে ত্রাণ সামগ্রী—সব কিছুই প্রাক্তন বিধায়কের ব্যক্তিগত কলেজে মজুত রাখা ছিল। এই ঘটনার পরই তাঁর বিরুদ্ধে চুরি, হুমকি ও তোলাবাজির মতো একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপন করেন। তদন্তে নেমে ধনেখালি থানার পুলিশ তাঁর মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে নিশ্চিত হয় যে তিনি ভিন রাজ্যে পালিয়েছেন। সেই সূত্র ধরেই কর্ণাটক থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রামেন্দু সিংহরায়ের গ্রেপ্তারি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে জয়ী হলেও, সাম্প্রতিক নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। বিজেপি প্রার্থীর প্রচার চলাকালীন তাঁর ওপর হামলার অভিযোগও রামেন্দুর বিরুদ্ধে ছিল। এই গ্রেপ্তারি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক আইনি পদক্ষেপের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিনে তৃণমূলের (TMC) নেতাদের ওপর আইনি খাঁড়া নেমে এসেছে। গত বুধবারই কসবা এলাকায় তোলাবাজির অভিযোগে ওডিশার পুরী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলার সুশান্ত ঘোষকে। এছাড়া রাজ্যের একাধিক প্রাক্তন মন্ত্রী—উদয়ন গুহ, সুজিত বসু-র মতো হাই-প্রোফাইল নেতাদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
একদিকে যখন রাজ্যের একাধিক প্রাক্তন মন্ত্রীর জেল হেপাজত চলছে, ঠিক তখনই রামেন্দু সিংহরায়ের মতো প্রাক্তন বিধায়কের কর্ণাটক থেকে গ্রেপ্তারি তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল। বিজেপি একে ‘দুর্নীতির মুখোশ খুলে যাওয়া’ বলে কটাক্ষ করেছে। ধনেখালি থানার পুলিশ এখন ধৃত প্রাক্তন বিধায়ককে নিজেদের হেপাজতে নিয়ে এই দুর্নীতির জাল কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

