উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দুবাই থেকে তেল আভিভগামী একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে (Flydubai assault) বড় ধরণের নাশকতার পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার ঘটনা এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঘটিত ওই ভয়াবহ ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানে কো-পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ওমানি নাগরিক হাম্মাম আল-হাম্মানি বিমানে হামলার মাধ্যমে বড়সড়ো ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই সহ-পাইলট ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারকে গোপনে হত্যা করে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে চেয়েছিলেন। এরপর জর্ডনের আকাশসীমা অতিক্রম করার পর ৯/১১ হামলার আদলে তেল অভিভের কোনো সুউচ্চ ভবন অথবা বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কোনো প্লেনের ওপর বিমানটি আছড়ে ফেলে আত্মঘাতী হামলা চালানোর ছক কষেছিলেন তিনি।
ঘটনার দিন বিমানটি আকাশে থাকাকালীন আল-হাম্মানি হঠাৎ করেই ককপিটে ক্র্যাশ এক্স দিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ওপর নৃশংস হামলা চালান। এই অপ্রত্যাশিত আক্রমণে বিমানের উচ্চতা হঠাৎ করেই ৩৬ হাজার ফুট থেকে নাটকীয়ভাবে নেমে প্রায় ১৭ হাজার ফুটে গিয়ে ঠেকে। আকস্মিক এই পতনের ফলে বিমানের ভেতর প্রচণ্ড কাঠামোগত চাপ সৃষ্টি হয় এবং পেছনের রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেসময় বিমানটিতে ১৭৪ যাত্রী সওয়ার ছিলেন। তবে চরম বিপদের মুখেও দমে যাননি আহত ক্যাপ্টেন মচ্ছর। অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তিনি নিজেই ককপিটের দরজা খুলে ফেলেন, যার ফলে ক্রু ও যাত্রীরা দ্রুত ভেতরে ঢুকে ওই আক্রমণকারী কো-পাইলটকে সম্পূর্ণভাবে কাবু করে ফেলতে সক্ষম হন।
পরবর্তীতে বিমানে থাকা অন্য দুই ডিউটি-মুক্ত পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদ অবতরণ করান। যাত্রীদের পরে নিরাপদে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, আল-হাম্মানি একা হাতেই এই হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং এর আগে জুুন মাসে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর পরিদর্শন করে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। এই মারাত্মক ঘটনার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে বলে জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, এই চরম সংকটের মুহূর্তে দুর্দান্ত সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়ায় ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi), ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সবাই তার অসামান্য বীরত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বর্তমানে অস্ত্রোপচারের পর দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ক্যাপ্টেন মচ্ছর এবং তিনি সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত আছেন। গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও নেতানিয়াহুর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে তিনি ঘটনার পুরো বিবরণ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন।

