নাগরাকাটা: চা বলয়ের অন্ধকার দূর করে স্বাস্থ্যের আলো ছড়ানো এক লড়াকু জীবনকে কুর্নিশ জানাল দেশ। অসামান্য নিষ্ঠা ও সমাজসেবার স্বীকৃতি হিসেবে সোমবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে ‘ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল’ পুরস্কার (Florence Nightingale Award) গ্রহণ করলেন জলপাইগুড়ির গীতা কর্মকার। আন্তর্জাতিক নার্সিং দিবস উপলক্ষে নয়া দিল্লিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সারা দেশের ১৫ জন নার্সের মধ্যে এরাজ্য থেকে একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন তিনি।
১৯৮৩ সালের জুন মাসে স্বাস্থ্যকর্মী (ফিমেল হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন গীতা দেবী। তাঁর দীর্ঘ সময়ের কর্মস্থল ছিল ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগান। সে সময় শ্রমিক মহল্লায় ১০০ শতাংশ প্রসবই হতো বাড়িতে, যার ফলে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার ছিল উদ্বেগজনক। কুসংস্কার আর অশিক্ষা কাটিয়ে শ্রমিকদের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় ফিরিয়ে আনা ছিল এক দুঃসাধ্য চ্যালেঞ্জ।
তখন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাকা ভবন ছিল না। সাইকেলে চেপে গ্রামে গ্রামে ঘুরে হাট-বাজারে চেয়ার-টেবিল পেতে পরিষেবা দিতেন গীতা দেবী। ২০০৮ সালে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০ শতাংশ প্রতিবন্ধকতার শিকার হন তিনি। শারীরিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নিজের কাজে কখনও ফাঁকি দেননি তিনি। এ বছরের ৩১ জানুয়ারি বেলাকোবা গ্রামীণ হাসপাতালের হেলথ সুপারভাইজার হিসেবে তিনি অবসর নিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি ভবনে গীতা দেবীর পুরস্কার গ্রহণের দৃশ্য টেলিভিশনে দেখে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীরা। জলপাইগুড়ির মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. অসীম হালদার বলেন, “গীতা দেবীর হাত ধরে এই জেলায় আরও একটি নাইটিঙ্গেল পুরস্কার এল। এটি আমাদের জন্য পরম প্রাপ্তি।” ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. প্রীতম বসু দিনটিকে ‘গর্বের দিন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
গীতা দেবীর স্বামী যুগল কিশোর কর্মকারও পেশায় স্বাস্থ্যকর্মী ছিলেন। তাঁদের একমাত্র সন্তান রজতশুভ্র বর্তমানে তাইওয়ানে বায়ো-মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে উচ্চতর গবেষণা করছেন।
