উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: খেলা দেখার টিকিট পকেটে, গায়ে প্রিয় দলের জার্সি, হাতে জাতীয় পতাকা বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন শুরু করে দিয়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু আপনি কি স্টেডিয়ামে নিজের জলের বোতলটি নিয়ে ঢোকার কথা ভাবছেন? ভাবলে এখনই সেই পরিকল্পনা বাতিল করুন। কারণ বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে এক অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা। স্টেডিয়ামে জলভর্তি বোতল তো দূরের কথা, খালি পুনর্ব্যবহারযোগ্য বোতল নিয়ে ঢোকার অনুমতিও আচমকা তুলে নেওয়া হয়েছে।
মাত্র তিন সপ্তাহ আগেও ফিফার সরকারি আচরণবিধিতে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল, সমর্থকরা চাইলে ১ লিটার পর্যন্ত স্বচ্ছ এবং খালি প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহারযোগ্য বোতল স্টেডিয়ামে নিয়ে ঢুকতে পারবেন। কিন্তু গত ২ জুন আচমকা সেই নিয়ম বদলে নতুন নির্দেশিকা জারি করে ফিফা। যেখানে পরিষ্কার বলা হয়েছে— ‘কোনো ধরনের পুনর্ব্যবহারযোগ্য জলের বোতল স্টেডিয়ামে আনা যাবে না।’ ইতিমধ্যেই টিকিট ক্রেতাদের ইমেল মারফত এই নতুন নিয়মের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
হঠাৎ তিন সপ্তাহের মধ্যে এমন কী বদলে গেল যে নিয়ম পালটাতে হলো? ফিফার দাবি, খেলোয়াড় এবং দর্শকদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত। বাইরে থেকে আনা শক্ত বোতল মাঠে বা গ্যালারিতে ছুড়ে মারলে বড়সড় চোট-আঘাতের ঝুঁকি থাকে। তবে প্রশ্ন উঠছে, তিন সপ্তাহ আগে কি এই ঝুঁকির কথা জানা ছিল না?
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শুধু পুনর্ব্যবহারযোগ্য বোতলই নয়, অন্য যেকোনো ধরনের বোতল নিয়েই স্টেডিয়ামে প্রবেশ নিষিদ্ধ। ছাড় মিলবে শুধুমাত্র শিশুদের দুধ, জীবাণুমুক্ত জল এবং বিশেষ চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনীয় তরলের ক্ষেত্রে। তবে সে ক্ষেত্রেও ইংরেজি, ফরাসি বা স্প্যানিশ ভাষায় লেখা উপযুক্ত মেডিকেল সার্টিফিকেট বা নথি সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক।
ফিফার এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল যখন ২০২৬ বিশ্বকাপে তাপপ্রবাহ নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। একটি রিপোর্টে জানা গেছে, টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে অন্তত ২৬টি ম্যাচ প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে খেলা হবে। গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপেও জল নিয়ে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল সমর্থকদের মধ্যে, কারণ স্টেডিয়ামের ভেতরে এক-একটি জলের বোতলের দাম রাখা হয়েছিল ৪ থেকে ৬ ডলার।
এবার নিজের বোতল নিষিদ্ধ হওয়ায় স্টেডিয়ামের ভেতরে ফিফার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক অংশীদার ‘কোকা-কোলা’র ব্র্যান্ডের জলই কিনতে হবে দর্শকদের। আর এখানেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা। অনেকেরই প্রশ্ন, নিরাপত্তা তো উছিলা মাত্র, আসল উদ্দেশ্য কি কোটি কোটি ডলারের জলের ব্যবসা সুনিশ্চিত করা?
বিতর্ক ঢাকতে ফিফা অবশ্য আশ্বস্ত করেছে যে, স্টেডিয়ামের বাইরে পর্যাপ্ত কুলিং জোন, মিস্টিং স্টেশন, হাইড্রেশন পয়েন্ট, ফ্যান জোন এবং ছাউনির ব্যবস্থা থাকবে। মাঠের ভেতরেও ফুটবলারদের সুরক্ষায় প্রতি অর্ধে বাধ্যতামূলক ‘ড্রিঙ্কস ব্রেক’ বা জলপানের বিরতি থাকবে এবং রিজার্ভ বেঞ্চেও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
তা সত্ত্বেও শান্ত হচ্ছেন না সমর্থকরা। ফুটবল সমর্থক সংগঠনগুলির এক মুখপাত্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আবারও প্রমাণ হলো, ফিফার কাছে সমর্থকদের সুবিধা-অসুবিধা সবার শেষে আসে। এই তীব্র গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে মানুষের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা প্রধান বিষয় হওয়া উচিত ছিল, বোতলজাত জল বিক্রি করে মুনাফা লোটা নয়।”
