উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) নক-আউটের মহাযুদ্ধে এ যেন এক অঘোষিত ‘অঘটন’! ম্যাচের শুরুর দিকে ভিনিসিয়ুস-পাকেতাদের দাপটে যখন ব্রাজিলীয় আধিপত্যের গল্প লেখা হচ্ছিল, তখনই মঞ্চে আবির্ভূত হলেন জাপানি মিডফিল্ডার কাইশু সানো। তাঁর করা একটি বুলেট গতির গোল মুহূর্তের মধ্যে বদলে দিল ম্যাচের সমীকরণ। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এখন ব্যাকফুটে, আর উল্লাসে ভাসছে ‘ব্লু সামুরাই’রা।
ম্যাচের ২৯ মিনিট। হাইড্রেশন ব্রেকের ঠিক পরপরই মাঝমাঠে ব্রাজিলের দানিলোর থেকে পাওয়া লুজ বলটিকে লুফে নেন কাইশু সানো। গতিতে কাসেমিরোকে পরাস্ত করে বক্সের বাইরে থেকে সানোর ডান পায়ের সেই নিখুঁত শটটি যখন পোস্টের বাম কোণ দিয়ে জালে জড়াল, তখন স্তব্ধ হয়ে গেল গ্যালারির বড় একটা অংশ। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ল ফুটবলের নন্দনকানন খ্যাত ব্রাজিল।
ম্যাচের শুরুর ১৫ মিনিটে ব্রাজিলের আক্রমণের ঢেউ জাপানি রক্ষণভাগে আছড়ে পড়ছিল। ৫ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের জন্য আসা বলটি জাপানি গোলকিপার সুজুকির পাঞ্চ করে ক্লিয়ার করার ঘটনাটি ছিল চরম নাটকীয়। গিমারায়েস, কুনহা এবং পাকেতারা বারবার জাপানি গোলপোস্টে হানা দিলেও জাপানের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ছিল দুর্ভেদ্য। উল্টোদিকে, ১৬ মিনিটে জাপানের পাওয়া ফ্রি কিকটি ব্রাজিলের রক্ষণদেয়ালে বাধা পেলেও, তা দিয়ে নিজেদের উপস্থিতির জানান দিয়ে রেখেছিল এশিয়ার প্রতিনিধিরা।
পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচের প্রথমার্ধে প্রায় ৭৫ শতাংশ বল দখলে রেখেও ব্রাজিল গোলমুখ খুলতে ব্যর্থ হয়েছে। জাপানের রক্ষণের সুশৃঙ্খল বিন্যাস এবং পাল্টা আক্রমণে ওঠার মানসিকতা ব্রাজিলীয় ডিফেন্ডারদের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও স্ট্রাইকিং জোনে ফিনিশিংয়ের অভাব বা জাপানি গোলকিপারের তৎপরতা—ঠিক কোথায় খামতি রয়েছে, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন উঠছে কোচিং বক্সে।
এখন দেখার বিষয়, বিশ্বকাপের নক-আউটের এই স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে ব্রাজিল কি তাদের চিরচেনা ছন্দ ফিরে পেতে পারবে, নাকি এশিয়ান ফুটবলের নতুন সূর্য জাপান আজ এক ঐতিহাসিক অঘটন ঘটিয়ে ইতিহাস গড়বে?

