উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ফুটবলারদের উপর সবসময়ই থাকে প্রত্যাশার চাপ। তবে রেফারিদের কাজকর্ম প্রতি মুহূর্তে থাকে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের তলায়। তাঁদের একটি মাত্র সিদ্ধান্ত ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। ফুটবলাররা কোটি কোটি টাকা বেতন পেলেও, একজন রেফারি কত টাকা (FIFA Referee Earnings) পান, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। আগামী ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে রেফারিদের বেতন আগের তুলনায় অনেকটাই বাড়ছে। একই সাথে রেফারিদের শরীরে যুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক নতুন যন্ত্র এবং চোখে বসছে এআই (AI) ক্যামেরা।
গত ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে একজন রেফারি চুক্তিভিত্তিক ৭০ হাজার ডলার পেয়েছিলেন, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬৭ লক্ষ টাকা। এই নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার পাশাপাশি ছিল ম্যাচ পিছু ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ ডলার পর্যন্ত বেতন, যা রেফারিদের যোগ্যতা ও বিশ্বকাপের বিভিন্ন পর্বের ম্যাচের ওপর নির্ভর করত। এছাড়া ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) ও সহকারী রেফারিরাও বড় অঙ্কের বেতন পেয়েছিলেন।
এবার সেই বেতনের অঙ্ক এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়ছে। ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও সূত্রের খবর, এবার রেফারিরা এককালীন ১ লক্ষ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯৫ লক্ষ টাকা) পাবেন। এছাড়া ম্যাচ পিছু বেতন বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১০ হাজার মার্কিন ডলার। এর সঙ্গে থাকবে আকর্ষণীয় বোনাসও। অনুমান করা হচ্ছে, ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে যিনি দায়িত্বে থাকবেন, তিনি বিভিন্ন ম্যাচের দায়িত্ব মিলিয়ে মোট প্রায় ৩ লক্ষ ডলার পাবেন, ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে, সহকারী রেফারিরা এককালীন পাবেন ২৫ হাজার ডলার বা প্রায় ২৩ লক্ষ টাকা।
এই বেতন বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন ইংরেজ রেফারিরা, যাঁদের মধ্যে অন্যতম মাইকেল অলিভার ও অ্যান্থনি টেলর। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও এফএ কাপে ম্যাচ পরিচালনার সূত্রে তাঁরা এমনিতেই বছরে প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার পাউন্ড (ভারতীয় মুদ্রায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা) পান। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হবে বিশ্বকাপের মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক।
অর্থের পাশাপাশি এবার মাঠের প্রযুক্তিতেও আসছে এক যুগান্তকারী বদল। ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিদের ডান চোখের উপর এবার একটি বাড়তি যন্ত্র দেখা যাবে। এটি মূলত এআই (AI) পরিচালিত একটি হাই-রেজোলিউশন ক্যামেরা, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘রেফ ক্যাম’। প্রযুক্তি সংস্থা লেনোভো-র বানানো এই বিশেষ ক্যামেরাটি রেফারির চোখের সঙ্গে মিলিয়ে অ্যাঙ্গেল ঠিক করা থাকবে। এর ফলে ম্যাচ চলাকালীন রেফারি ঠিক কী দেখছেন এবং কোন পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে দ্রুতগতির ম্যাচে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা সরাসরি টেলিভিশনের পর্দায় দর্শকরা দেখতে পাবেন। রেফারিকে মাঠের মধ্যে অনবরত দৌড়াতে হলেও ক্যামেরার ছবিতে যাতে কোনো ঝাঁকুনি না আসে, তার বিশেষ ব্যবস্থাও করেছে নির্মাতা সংস্থাটি।
চোখের এই বিশেষ এআই ক্যামেরা ছাড়াও রেফারিদের কানে থাকছে আরেকটি চেনা ডিভাইস। এই মাইক্রোফোনের সাহায্যে রেফারিরা মাঠের দুই প্রান্তের লাইন্সম্যান এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিদের (VAR) সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখবেন এবং তাঁদের মতামত শুনতে পাবেন। সব মিলিয়ে, আগামী বিশ্বকাপে রেফারিদের কাজ যেমন নিখুঁত হতে চলেছে, তেমনই তাঁদের আর্থিক প্রাপ্তিও থাকছে আকাশছোঁয়া।

