উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: শরীর ঠান্ডা রাখা থেকে শুরু করে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বহুগুণে গুণান্বিত মেথিকে অনেকেই ‘সুপার ফুড’ বলে থাকেন। ফলিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, আয়রন এবং ম্যাগনেশিয়ামের মতো জরুরি উপাদানে ভরপুর মেথি ভেজানো জল (Fenugreek Water) নিয়মিত খেলে উচ্চ রক্তচাপ, ইউরিক অ্যাসিড ও চুল পড়ার সমস্যায় দারুণ উপকার মেলে। এমনকি ঠান্ডা লাগার ধাত থাকলেও মেথি বেশ কার্যকর। কিন্তু সবার শরীরের প্রকৃতি এক নয়। তাই চিকিৎসকদের মতে, কিছু বিশেষ শারীরিক সমস্যায় মেথির জল উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে।
জেনে নিন কাদের জন্য এই পানীয় একেবারেই উপযুক্ত নয়:
থাইরয়েডের রোগী: মেথিতে থাকা গয়ট্রোজেনিক উপাদান থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়। তাই হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে মেথির জল সমস্যা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ব্লাড থিনার ব্যবহারকারী: মেথি রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। ফলে যাঁরা রক্ত পাতলা করার ওষুধ (Blood Thinner) খাচ্ছেন, তাঁদের শরীরে রক্ত অতিরিক্ত পাতলা হয়ে রক্তপাতের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
নিম্ন শর্করা বা হাইপোগ্লাইসেমিয়া: মেথি রক্তে সুগারের মাত্রা দ্রুত কমায়। তাই যাঁদের শরীরে শর্করার মাত্রা এমনিতেই কম, মেথির জল খেলে তাঁদের রক্তে শর্করার পরিমাণ বিপজ্জনক স্তরে নেমে যেতে পারে।
অন্তঃসত্ত্বা মহিলা: গর্ভাবস্থায় মেথির জল এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। এটি জরায়ুর সংকোচন বাড়িয়ে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রসব বা ‘প্রি-টার্ম ডেলিভারি’-র ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
অ্যালার্জির প্রবণতা: অনেকেরই মেথি খাওয়ার পর ত্বকে চুলকানি বা র্যাশের মতো অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দেয়। এমন উপসর্গ থাকলে মেথির জল ছোঁয়াও উচিত নয়।
সুতরাং, অন্ধভাবে মেথির জল খাওয়ার অভ্যাস শুরু করার আগে নিজের শারীরিক পরিস্থিতি বুঝুন। প্রয়োজনে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সুস্থ থাকুন, সচেতন থাকুন।

