ফালাকাটা: তিন মাস ধরে এক নাবালিকাকে লাগাতার নির্যাতনের পর গর্ভবতী করে তোলার অভিযোগ উঠল (Falakata Rape Case)। এখানেই শেষ নয়, নির্যাতিতা নাবালিকাকে গর্ভপাত করানোর জন্য অভিযুক্তের মেয়েই তাকে এক হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। বুধবার এই মর্মান্তিক ঘটনার কথা জানাজানি হতেই কোচবিহার সংলগ্ন ফালাকাটার ধনীরামপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। ক্ষিপ্ত জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়, যার ফলে গোটা এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন মাস আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে। ক্রমাগত নির্যাতনের ফলে নাবালিকা গর্ভবতী হয়ে পড়ে। বুধবার নাবালিকার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এবং সে অসুস্থ বোধ করলে, পুরো ঘটনাটি সে তার মাকে জানায়। মায়ের কাছ থেকে এই ভয়াবহ কথা শোনার পর প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
গ্রামের এক নাবালিকার সঙ্গে এমন অমানবিক নির্যাতনের খবর জানাজানি হতেই বুধবার সন্ধ্যা থেকে এলাকার মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে চড়াও হয় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে। ফলে দীর্ঘক্ষণ দমকল বাহিনী কাজ করতে পারেনি এবং ততক্ষণে অভিযুক্তের বাড়িটি ভস্মীভূত হয়ে যায়।
পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যাওয়ায় খবর পাঠানো হয় জটেশ্বর ফাঁড়ি, ফালাকাটা থানা এবং বীরপাড়া থানায়। রাত আটটা নাগাদ বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের হস্তক্ষেপে দমকল বাহিনী আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। নির্যাতিতার পরিবার ও এলাকাবাসী অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

