ভাস্কর শর্মা, ফালাকাটা: ফালাকাটা (Falakata) শহরে ফুটপাথ (Footpath) যেন ‘উধাও’ হয়ে গিয়েছে। শহরের মূল ফুটপাথ ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গিয়েছে। সেখানে নানা ব্যবসার সামগ্রী রাখা। চলাচলের জায়গা নেই। মেইন রোডের ফুটপাথ জুতো ব্যবসায়ীদের দখলে। নেতাজি রোড কার্যত পার্কিং জোনে পরিণত হয়েছে। শহরের ফুটপাথ এভাবে ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যাওয়ায় যানজট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। দুর্ঘটনাও ঘটছে কিন্তু পুরসভা (Falakata Municipality) ফুটপাথ খালি করতে কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ। এনিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ক্ষোভ ছড়াচ্ছে।
ফালাকাটা পুরসভার চেয়ারম্যান অভিজিৎ রায় বললেন, ‘আগে আমরা ফুটপাথ খালি করে দিয়েছিলাম। এমনকি বেশ কিছু অবৈধ নির্মাণও ভেঙেছি। ফের ব্যবসায়ীরা ফুটপাথ দখল করে থাকলে তা খালি করে দিতে হবে। না হলে নতুন বছরের শুরুতেই অভিযান চালিয়ে মালপত্র বাজেয়াপ্ত করা হবে।’
শহরে একেবারে ট্রাফিক মোড় থেকে বীরপাড়া বাসস্ট্যান্ড হয়ে ধূপগুড়ি মোড় পর্যন্ত বেশিরভাগ জায়গার ফুটপাথ দখল হয়ে রয়েছে। ট্রাফিক মোড় থেকে পূর্বদিকের সুভাষপল্লি মোড়, হাসপাতালের সামনেও একই অবস্থা। ফুটপাথে কেউ বিরিয়ানি, কেউ পানের দোকান দিয়েছেন। কেউ নিজেদের দোকানের অংশ বাড়িয়ে ফুটপাথ পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। ফুটপাথের নীচে থাকা বড় নর্দমার স্ল্যাবগুলিকে দোকানপাটের সাইনবোর্ড রাখার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে এখান দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
পুরসভা সূত্রে খবর, ফালাকাটা শহরের ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে পুরসভা এক–দু’বার মাইকিং করে। এরপর দেড় বছর আগে তারা ফুটপাথ অভিযানও করে। অভিযোগ, ওইদিন ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে এসে একাধিক বেনিয়ম পুরসভার চোখে ধরা পড়েছিল। অনেক ব্যবসায়ী ফুটপাথের স্ল্যাবে ফুটো করে সেখানে জল তোলার পাইপ লাগিয়েছেন। বিশেষ করে বেশ কিছু বিরিয়ানির দোকান পুর আইনকে তোয়াক্কা না করেই এই কাজ করেছে। বেশ কিছু ব্যবসায়ী এখানে জায়গা পাকা করে সেখানে সিঁড়ি, ব্যবসার সামগ্রী রাখার জায়গা বানিয়েছেন। এসব দেখে পুরসভার তরফে সেদিনই ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। ওই অভিযানের কিছুদিন পর শহরের ফুটপাথ খালি ছিল। কিন্তু গত এক বছর ধরে ফের ফালাকাটার ফুটপাথ দখল হতে থাকে।
স্থানীয় সঞ্জয় সোমের অভিযোগ, ‘ফালাকাটার ফুটপাথ দিয়ে তো হাঁটাচলাই যায় না। ফুটপাথ নিজেদেরই ধরে নিয়ে ব্যবসায়ীরা তা দখল করে রেখেছেন। কিন্তু পুরসভা একবার লোকদেখানো অভিযান করল। কিন্তু তারপর যে অবস্থায় ছিল সেভাবেই রয়েছে। এখন অবস্থা আরও খারাপ।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেইন রোডের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘শহর দিয়ে যখন ১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক তৈরি হয় তখন আমাদের দোকান ভাঙা পড়েছিল। এখন দোকানের আয়তন একেবারেই ছোট। তাই বাধ্য হয়ে ফুটপাথে পসরা সাজাই। তবে সবাই যদি পসরা সরিয়ে দেয় তবে আমিও সরাব।’
