Falakata | পুজোর চাঁদা দেন সাত্তাররা, খান প্রসাদও

Falakata | পুজোর চাঁদা দেন সাত্তাররা, খান প্রসাদও

শিক্ষা
Spread the love


সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। কথাটি যথার্থই সার্থক হয়ে ওঠে ফালাকাটার ভৈরবহাটে (Falakata)। দুই দশক আগেও সেখানে পুজোর সময় ঢাকের শব্দ শোনা যেত না৷ এখন ছবিটা বদলেছে৷ ১৭ বছর ধরে দুর্গাপুজো হচ্ছে। এবারের পুজো ১৮তম। দুর্গাপুজো হোক কিংবা ইদ, এখানে সব উৎসবেই সম্প্রীতির ছোঁয়া লাগে। ইদের মাঠে হিন্দুদের যেতে দেখা যায়। তেমনি দুর্গাপুজোয় শামিল হন সাত্তার হোসেন, সহিদুল ইসলাম, মজিদুল ইসলামের মতো অনেকেই। তাঁরা পুজোর চাঁদা দেন। অষ্টমীতে ভোগের প্রসাদও খান। এভাবেই ভৈরবহাটের পুজো হয়ে ওঠে সম্প্রীতির উৎসব।

ভৈরবহাটের পাশেই জলদাপাড়া বনাঞ্চল। যখন-তখন হাতি ঢুকে পড়ে এলাকায়। যে কারণে বহুকাল পর্যন্ত পুজোর আয়োজনে আগ্রহ দেখাননি স্থানীয়রা। নিস্তব্ধতার মাঝেই পুজোর দিনগুলি চলে যেত। তবে একসময় হাতি নিয়ে ভীতি দূর করতে পুজোটা শুরু হয়। এজন্য হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলিমরাও এগিয়ে আসেন। এই পুজোর জন্য প্রথম একশো টাকা চাঁদা দিয়েছিলেন মোক্তার আলি মিয়াঁ। এভাবেই হিন্দু-মুসলিম সবার উদ্যোগে ভৈরবহাটের পুজো হয়ে ওঠে সর্বজনীন। প্রথমদিকে বাজারেই অস্থায়ীভাবে মণ্ডপ করে পুজো হত। এরপর দুর্গা মন্দিরের জন্য জমি দান করেন প্রয়াত তরণীকান্ত রায়। সেই জমিতেই তৈরি হয় পাকা মন্দির। এখন সেখানেই পুজো হয়। আর মন্দিরের সামনে হয় বার্ষিক পুজোর মণ্ডপ।

এবারের পুজো কমিটির সম্পাদক মানস রায়ের কথায়, ‘সম্প্রীতির বার্তা নিয়েই প্রতিবার পুজো হচ্ছে। পুজোর সবকিছুতেই মুসলিমদের সহযোগিতা মেলে।’ ভৈরবহাট এলাকায় হিন্দ-মুসলিম উভয় ধর্মের মানুষের বসবাস। ইদের সময় হিন্দুদের তরফে সবরকমের সহযোগিতা করা হয়। এই ভাবনা থেকে দুর্গাপুজোতেও মুসলিমরা শামিল হন। প্রত্যেকেই সাধ্যমতো চাঁদা দেন। অষ্টমীতে প্রসাদ হিসেবে খিচুড়ি খাওয়ানো হয়। এই প্রসাদ গ্রহণ করেন মুসলিমরাও৷ পুজোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখা ও সেইসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতেও দেখা যায় তাঁদের। সহিদুল বলেন, ‘উৎসবের ক্ষেত্রে ধর্ম কোনও বিষয় নয়। ইদও যেমন সবারই উৎসব, দুর্গাপুজোও সর্বজনীন।’

 স্থানীয় বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক পার্থ অধিকারীর বক্তব্য, ‘উৎসব, অনুষ্ঠানে এখানে ধর্মীয় ভেদাভেদ থাকে না। ইদের মাঠে আমরাও গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করি। তাই দুর্গাপুজোতেও ওঁদের সহযোগিতা মেলে।’

এবারও পুজোর উদ্বোধনের সন্ধ্যায় দুঃস্থ বাসিন্দাদের বস্ত্রদান করা হবে বলে কমিটির সভাপতি মানিক রায় জানিয়েছেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *