Face Licensing | মুখ ভাড়া দিয়েই লাখ লাখ টাকা! চিনে শুরু হল এআই ফেস-লাইসেন্সিংয়ের রমরমা বাজার

ব্লগ/BLOG
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ আপনার মুখ দিয়ে তৈরি হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর চরিত্র, আর তার বিনিময়ে পকেট ভারী হবে আপনার—কোনও রকম শারীরিক পরিশ্রম ছাড়াই টাকা উপার্জনের এমন এক অভিনব ট্রেন্ড এখন দানা বাঁধছে চিনে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত শর্ট ড্রামা, বিজ্ঞাপন এবং গেমের জন্য সাধারণ মানুষের মুখের আদল লিজ দেওয়ার এই বাজারটি (Face Licensing) বর্তমানে বেশ দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের গোপন আলোচনা থেকে বেরিয়ে এই নতুন মার্কেটপ্লেসটি গত এপ্রিল মাস থেকেই প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সাধারণ মানুষের মুখ এখানে একটি সম্ভাব্য সাইড হাসল বা উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠছে। এই ব্যবস্থার প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ। ফেস-লাইসেন্সিং প্ল্যাটফর্মে নাম রেজিস্টার করে পরিচয় যাচাই করানোর পর ডিজিটাল অভিনেতার প্রোফাইল তৈরি করতে হয়। এরপর নির্মাতারা এআই চরিত্রের জন্য ব্রাউজ করে উপযুক্ত মুখ বেছে নেন।

উদাহরণস্বরূপ, গত মে মাসে লঞ্চ হওয়া শেনজেন-ভিত্তিক ‘ইউয়ানজিয়াং জিনশেং’ প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীরা রেজিস্ট্রেশন এবং ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে এই ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করতে পারছেন। চিনের রমরমা এআই বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই ধারণা। শর্ট ড্রামা তৈরির খরচ কমাতে এবং তা দ্রুত সম্পন্ন করতে এখন স্ক্রিপ্ট ও ভিডিওর পাশাপাশি এআই চরিত্র নিয়ে ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন নির্মাতারা।

বাজারের সামগ্রিক পরিসর ৭ থেকে ১৫,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে খবর রয়েছে, তবে এটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। মূলত প্ল্যাটফর্ম, প্রোডাকশনের ধরন এবং লাইসেন্সিং চুক্তির ওপর নির্ভর করে এই অঙ্ক কম-বেশি হয়। তাই শুধু একটি সেলফি আপলোড করলেই রাতারাতি বড় অঙ্কের টাকা আয় করা সম্ভব নয়, তবে নিজের ডিজিটাল সত্তার একটি দাম নির্ধারণ করা সম্ভব হওয়াই এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক। প্রশ্ন উঠছে, এআই যখন প্রায় সবকিছুই তৈরি করতে পারে, তখন আসল মানুষের মুখের জন্য অর্থ খরচ করার কারণ কী?

পুরো বিষয়টি ঘিরে রয়েছে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য। এআই যেখানে যেকোনও কাল্পনিক মুখ তৈরি করতে পারে, তবুও অনেক সময় নির্মাতারা এমন মুখ খোঁজেন যা একটু স্বতন্ত্র, চেনা বা নিখাদ মানুষের মতো দেখতে। এই প্রসঙ্গে এক বিপণন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধান চরিত্রের জন্য আকর্ষণীয় মুখের পাশাপাশি বয়স্ক মানুষের মতো স্বতন্ত্র মুখেরও চাহিদা রয়েছে। তবে অন্য একটি পক্ষের মতে, সাধারণ মুখের তেমন কোনও বাণিজ্যিক মূল্য নেই, কারণ এআই সহজেই তা তৈরি করতে পারে। বিপরীতে সেলিব্রিটিদের মুখ পরিচিতি বহন করায় তার মূল্য অনেক বেশি।

টাকার অঙ্ক লোভনীয় হলেও নিজের মুখ বা ডিজিটাল লাইকনেস লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে তা কীভাবে পুনর্ব্যবহার, পরিবর্তন বা বিতরণ করা হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন থেকেই যায়। ‘লোয়ি ইনস্টিটিউট’-এর এক বিশ্লেষণে সতর্ক করে জানানো হয়েছে যে, লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিজিটাল রূপ আসল উদ্দেশ্যের বাইরেও অপব্যবহৃত হতে পারে, যার ফলে মানুষ নিজের পরিচয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। এছাড়া মুখের ডেটা এআই ট্রেনিংয়ের জন্য ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া এবং লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি সবসময় এক নয়।

চিনের মতো সাধারণ মানুষের মুখ লিজ দেওয়ার বাজার ভারতে না থাকলেও, এ দেশেও জনসমক্ষে পরিচিত মুখ বা পাবলিক ফিগারদের নিয়ে এআই ভার্সন নিয়ে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। চলতি বছরের মার্চে অভিনেতা রিয়া চক্রবর্তী ‘Collective Artists Community’ এবং ‘Galleri5’ এর সঙ্গে যৌথভাবে ‘মিষ্টি’ (Mishty) নামের একটি এআই-চালিত ডিজিটাল চরিত্র লঞ্চ করেছিলেন। ‘মিন্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়ার ডিজিটাল উপস্থিতি প্রসারিত করতে এবং দর্শকদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার নতুন মাধ্যম হিসেবে এই অবতারটি তৈরি করা হয়েছে।

চিনের এই অভিনব মডেল বিনোদন জগতে এক নতুন সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছে। এআইয়ের কল্যাণে যেখানে প্রোডাকশনের সময় এবং খরচ অনেকটাই কমে আসছে, সেখানে মুখ, কণ্ঠস্বর এবং ডিজিটাল পরিচয় উপার্জনের নতুন সম্পদ হয়ে উঠছে। তবে যারা এই পথে হাঁটতে চান, তাঁদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি থেকেই যায়—টাকার বিনিময়ে ঠিক কতটা নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতছাড়া করতে তারা প্রস্তুত?



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *