Expatriate Bengalis | দিল্লির মিনি কুমোরটুলি প্রবাসী বাঙালির কাছে শিকড়ে ফেরার আবেগ

Expatriate Bengalis | দিল্লির মিনি কুমোরটুলি প্রবাসী বাঙালির কাছে শিকড়ে ফেরার আবেগ

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


নয়াদিল্লি : মহালয়ার (Mahalaya) ভোর মানেই আগমনী সুরে মায়ের আগমনের (Mom’s arrival) আভাস। পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবীপক্ষের শুরু। কলকাতায় যখন একের পর এক পুজো মণ্ডপের উদ্বোধনে ব্যস্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), তখন রাজধানী দিল্লির (Delhi) বাঙালি অধ্যুষিত চিত্তরঞ্জন পার্কেও (Chittaranjan Park) পুজোর রং ছড়িয়ে পড়েছে। আর সেই উৎসবের গন্ধ সবার আগে এসে লাগে চিত্তরঞ্জন পার্কের প্রাণকেন্দ্র মিনি কুমোরটুলিতে।

চন্দ্রলোক সিনেমা হল সংলগ্ন সরু গলিগুলো এখন মাটি আর রঙের গন্ধে ভরপুর। বাঁশের খাঁচায় শুকোচ্ছে প্রতিমার অঙ্গ, শিল্পীদের হাত ব্যস্ত তুলির শেষ টানে। গায়ে গয়না বসানো হচ্ছে, মায়ের চোখে টানা হচ্ছে চিরচেনা সেই চাহনি। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একটাই লক্ষ্য, ঠিক সময়ে প্রতিমা পৌঁছে দিতে হবে পুজো মণ্ডপে।

এই মিনি কুমোরটুলির প্রাণপুরুষ নদিয়ার বাসিন্দা মানিক পাল (Manik Pal)। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁদের পরিবার যুক্ত মৃৎশিল্পের সঙ্গে। কলকাতার কুমোরটুলিতে বহু বছর কাজ করেছেন তিনি। ২০০০ সালে দিল্লিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের ট্যাবলো সাজানোর কাজে এসে ভাগ্যের মোড় ঘুরে যায়। তাঁর প্রতিভায় মুগ্ধ হন রাজধানীর প্রবাসী বাঙালিরা। সেখান থেকেই শুরু প্রতিমা গড়ার যাত্রা।

‘প্রথম বছর যখন একা হাতে প্রতিমা গড়ে চিত্তরঞ্জন পার্কে পাঠিয়েছিলাম, ভাবিনি একদিন দেশজুড়ে যাবে আমার প্রতিমা,’ বললেন আবেগভরা গলায় মানিক পাল। আজ তাঁর হাতে তৈরি প্রতিমা শুধু চিত্তরঞ্জন পার্ক নয়, নয়ডা, গুরুগ্রাম, জম্মু, লখনউ, এলাহাবাদ, বারাণসী এমনকি বিদেশেও পৌঁছে যাচ্ছে। প্রতিবছর চার মাস আগে পরিবার সহ চলে আসেন দিল্লিতে। এখন তাঁর কারখানায় প্রায় ২০ জন শিল্পী একসঙ্গে কাজ করেন। প্রতিমা তৈরির জন্য ট্রাক-ট্রাক মাটি আসে পশ্চিমবঙ্গ ও পঞ্জাব থেকে।
‘মহালয়ার পর থেকে সময় হাতে খুবই কম থাকে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিমা পাঠাতে না পারলে পুজো কমিটিগুলির অসুবিধা হয়। তাই এখন দিনরাত এক করে কাজ চলছে,’ জানালেন চিত্তরঞ্জন পার্কে অবস্থিত এই মিনি কুমোরটুলির আরেক শিল্পী গোপাল পাল, যিনি কুড়ি বছর ধরে প্রবাসী বাঙালিদের দুর্গাপুজোর জন্য এখানে প্রতিমা বানাচ্ছেন।

এখন চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। প্রতিমার গায়ে রঙের শেষ টান পড়ছে, গয়না একে একে বসানো হচ্ছে। দিনরাতের তফাত যেন মুছে গিয়েছে এখানে। শিল্পীরা বলছেন, এখন তাঁদের নাওয়া-খাওয়ার সময় নেই বললেই চলে। একে একে প্রতিমা তৈরি হচ্ছে, মণ্ডপে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। কয়েকদিন পরেই গলি-ঘুপচির এই শিল্পপল্লি খালি হয়ে যাবে, কিন্তু ততদিনে দুর্গাপুজোর গন্ধ ছড়িয়ে যাবে গোটা দিল্লি-এনসিআর জুড়ে। এখানকার শিল্পীদের দাবি, বর্তমানে চিত্তরঞ্জন পার্কে ৫০টিরও বেশি বড় পুজো হয়, যার অধিকাংশ প্রতিমাই তৈরি হয় এখানেই। স্থানীয় শিল্পীদের হাতে তৈরি প্রতিমার চাহিদা বাড়ছে। কারণ, সময়মতো ডেলিভারি ও কলকাতার মতোই খুঁটিনাটি কারিগরি এখানে বজায় থাকে।

মহালয়ার ভোরে চিত্তরঞ্জন পার্ক যেন হয়ে ওঠে এক মায়াবী মঞ্চ। একদিকে রেডিওয় ভেসে আসে মহালয়ার চণ্ডীপাঠ, অন্যদিকে প্রতিমাশিল্পীর আঙুল ব্যস্ত শেষ তুলির টানে। মাটির গন্ধে, রঙের ছোঁয়ায়, তুলির টানে যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে দেবীর আগমনী বার্তা। দিল্লির এই ছোট্ট মিনি কুমোরটুলি তাই শুধু প্রতিমা গড়ার জায়গা নয়, এ যেন প্রবাসী বাঙালির কাছে উৎসবের প্রথম নিঃশ্বাস, শিকড়ে ফেরার আবেগ আর পুজোর সুবাসে ভরা এক আশ্রয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *