নাগরাকাটা: এক রাতে দুটি স্কুল লন্ডভন্ড করল হাতির পাল। শনিবার গভীর রাতে ঘটনাটি (Elephant Assault) ঘটেছে বামনডাঙ্গা চা বাগানের (Tea Backyard) টন্ডু টিজি থ্রি এবং টন্ডু স্টেট প্ল্যান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এর মধ্যে প্রথম স্কুলটি বামনডাঙ্গার মূল ডিভিশনে অবস্থিত। অপর স্কুলটি ৬ কিলোমিটার দূরে টন্ডু ডিভিশনে অবস্থিত। এই দুটি স্কুলই বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে লাগাতার হাতির হামলার শিকার। এর মধ্যে টন্ডু স্টেট প্ল্যানে হামলার সংখ্যা গত ২৫ বছরে প্রায় ১০০ ছুঁইছুঁই।
এদিনের এই ঘটনার দরুন সোমবার সকালে যোগ দিবসের কর্মসূচী কোনওরকমে সারতে হয়। বাগানের শ্রমিক পরিবারের খুদে পড়ুয়াদের পড়াশোনার একমাত্র ভরসা দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বারবার এমন বেহাল দশা তৈরি হওয়ার জন্য তুমুল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন রাত আড়াইটা নাগাদ পাশের গরুমারার জঙ্গল থেকে ১৫ টি হাতির একটি দল টন্ডু টিজি থ্রি প্রাথমিক স্কুলে ঢোকে। তবে পালের বড় হাতিগুলি বাইরে দাঁড়িয়ে থাকলেও কয়েকটি শাবক নাকি স্কুলটিতে তান্ডব চালাতে শুরু করে। ৫টি শ্রেণীকক্ষ সহ অফিস রুম তছনছ করে তারা। দুমড়ে মুচড়ে নষ্ট করে দেয় মিড ডে মিল রান্নার বাসন। বর্তমানে একটি শ্রেণীকক্ষও সেখানে অক্ষত নেই বলে জানা গিয়েছে।
সেই রাতেই স্কুল লাগোয়া বাগানের ডায়না লাইনের একটি শ্রমিক মহল্লায় সাগর সাউ নামে এক ব্যক্তির রান্নাঘরও ভেঙে দেয় হাতি। এই প্রসঙ্গে ওই স্কুলের সহ শিক্ষক এবং স্থানীয় বাসিন্দা লক্ষীনারায়ন সাউ বলেন, “পড়াশোনার পরিবেশই নষ্ট হতে বসেছে। এভাবে কতদিন স্কুল চলবে জানা নেই। দুস্থ পরিবারের তফশিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রী অধ্যুষিত এই প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে এই স্কুলটিকে কেন্দ্রের পিএমশ্রী প্রকল্পের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরী। সেক্ষেত্রে যে বরাদ্দ মিলবে তা হাতির হামলা থেকে স্কুলকে রক্ষা করার কৌশল তৈরিতে কাজে লাগানো যেতে পারে বলে মনে করি।”
অন্যদিকে টন্ডু স্টেট প্ল্যান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুটি হাতি হামলা চালায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সেখানে গজরাজের হামলায় দুরমুশ হয়ে যায় তৃতীয় শ্রেণীর কক্ষটি। অফিস রুম সহ অন্য শ্রেণী কক্ষগুলিও কম বেশি হামলার শিকার হয়। এই বিষয়ে টিআইসি রাজা আনসারি বলেন, “যে ঘরটি হাতি ভাঙল, আয়তনে সব চেয়ে বড় হওয়ায় সেখানেই এদিন যোগ দিবসের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। পরে অন্য শ্রেণী কক্ষগুলিতে কয়েকজন করে পড়ুয়াকে বসিয়ে যোগ ব্যায়াম করানো হয়। মাঝে সরকারী উদ্যোগে মেরামত করে দেওয়ার পরও লাগাতার এমন হামলা চলতে থাকায় গোটা স্কুল ভবন এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এভাবে কি আর পড়াশোনা চলে!”
একদিকে গরুমারা (Gorumara) ও অন্য পাশে ডায়নার জঙ্গল ঘেরা বামনডাঙ্গা চা বাগান বরাবরই বন্যপ্রাণ উপদ্রুত। তবে বর্ষা শুরু হতেই হাতির অত্যাচার সেখানে এখন লাগামছাড়া। দিন তিনেক আগে বাগানের সরকারী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, দুটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র সহ একটি বেসরকারি স্কুল হামলার শিকার হয়। এর বাইরে শ্রমিক আবাসগুলিতেও অহরহ ঘটে চলেছে হাতির হামলার ঘটনা। এমন আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সাহায্যের আশায় দিন গুনছেন এখানকার স্থানীয়

