উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : দেশের শীর্ষ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং নির্বাচন কমিশনের(Election fee) বিরুদ্ধে লাগাতার রাজনৈতিক আক্রমণ ও সমালোচনার তীব্র প্রতিবাদ জানালেন একদল প্রবীণ বিচারক(Former judges)। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৪২ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির সই করা একটি জোরালো খোলা চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে যে, নিরপেক্ষ সাংবিধানিক সংস্থাগুলিকে নিশানা করার এই প্রবণতা সাধারণ মানুষের আস্থায় বড়সড় ধাক্কা দিচ্ছে। চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে যে, “ব্যালট অর্থহীন হয়ে পড়লে তার জায়গা দখল করে রাজপথ।” বর্তমান পরিস্থিতিতে মৌনতা বজায় রাখা আর নিরপেক্ষতা নয়, তাই মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকা সংশোধন(Voter listing revision) বা স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের তীব্র আন্দোলনের মাঝেই প্রাক্তন বিচারকদের এই যৌথ বিবৃতি জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। চিঠিতে স্বাক্ষরকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক প্রাক্তন বিচারপতিও রয়েছেন। বিচারকদের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো একটি আইনসম্মত প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক স্বার্থে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে, অথচ অতীতেও এই ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা আইনি নথিপত্র পেশ না করেই প্রকাশ্য সভা থেকে নির্বাচন কমিশন বা বিচারব্যবস্থাকে ‘চোর’ বা ‘কমপ্রোমাইজড’ বলে আক্রমণ করা হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
সমালোচনা আর অবমূল্যায়নের মধ্যে ফারাক করে প্রবীণ বিচারকরা উল্লেখ করেছেন যে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নীতিগত সমালোচনা করার অধিকার সকলেরই আছে, কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ইচ্ছাকৃতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিচারব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই অনাস্থার পরিবেশ কিছু স্বার্থান্বেষী এবং নৈরাজ্যবাদী শক্তিকে সুযোগ করে দিচ্ছে, যাদের একাংশ দেশীয় এবং একাংশ সীমানার ওপার থেকে ইন্ধন জোগাচ্ছে। অন্যদিকে, এই ভোটার তালিকা সংশোধন এবং কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী শিবির ও সুপ্রিম কোর্টের(Supreme courtroom) কিছু মহলের অন্দরেও যখন ভিন্ন মত ও ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে, ঠিক সেই সময় প্রবীণ বিচারকদের এই সওয়াল দেশের প্রাতিষ্ঠানিক অখণ্ডতা রক্ষায় এক নতুন তাত্ত্বিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
