উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তারপরেই শুরু হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণের মহারণ। এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ভোট গণনার (Election Counting) প্রাক্কালে কোনো রকম গাফিলতি বা ত্রুটি মেনে নিতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজকুমার আগরওয়াল জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—নিরাপত্তায় সামান্যতম ঢিলেমিও বরদাস্ত করা হবে না।
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, গণনাকেন্দ্রগুলিকে দুর্ভেদ্য করে তুলতে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের কাঁধে থাকছে সুরক্ষার মূল দায়িত্ব। সিইও-র নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যদি দ্বিতীয় স্তরের নিরাপত্তায় কোনো গলদ দেখা যায়, তবে তার জন্য প্রথম স্তরের কর্মীদের জবাবদিহি করতে হবে। একইভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের ক্ষেত্রেও দায়বদ্ধতার এই কড়া নিয়ম প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, দায় এড়ানোর কোনো সুযোগই রাখেনি কমিশন। এছাড়া, রিটার্নিং অফিসারের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো কাউন্টিং এজেন্ট গণনাকেন্দ্র ছেড়ে বাইরে যেতে পারবেন না।
ভোট গণনার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার মোট ২৪২ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য একজন করে মোট ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক থাকবেন। তবে কমিশন সাফ জানিয়েছে, পুলিশ পর্যবেক্ষকরা কোনো অবস্থাতেই গণনাকক্ষের ভেতরে ঢুকতে পারবেন না। তারা বাইরে থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবেন। অন্যদিকে, গণনা পর্যবেক্ষক ও রিটার্নিং অফিসার ছাড়া অন্য কারো ভেতরে মোবাইল নিয়ে প্রবেশের অনুমতি নেই।
ফলাফল নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম বলবৎ করেছে কমিশন। কাউন্টিং সুপারভাইজ়র ফর্ম-১৭সি-২-এ ফলাফল লিপিবদ্ধ করবেন, যা কাউন্টিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে সই করতে হবে। এছাড়াও প্রতিটি টেবিলে উপস্থিত মাইক্রো-অবজার্ভারদের আলাদাভাবে তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। গণনাকর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও একধাপ এগিয়েছে কমিশন। জেলা নির্বাচনি আধিকারিকদের (DEO) কাছে পাঠানো বার্তায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই গণনাকর্মীদের মোবাইল নম্বর প্রকাশ করা যাবে না। নম্বর ফাঁস হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে, ফলাফল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশন এক নিখুঁত ও বিতর্কহীন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
