উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: টানটান নাটকের পর অবশেষে বড়সড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। বার বার সমন এড়ানো এবং লুক আউট নোটিস জারির পর, ইডির (Enforcement Directorate) হাতে গ্রেপ্তার হলেন কলকাতা পুলিশের(Kolkata police) ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাস। বহুল চর্চিত ‘সোনা পাপ্পু’ মামলায় বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে হেপাজতে নিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে সাড়ে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবারই তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।
কালীঘাটের প্রাক্তন ওসি তথা বর্তমান কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাসকে এর আগে একাধিকবার তলব করেছিল ইডি। কলকাতা ও দিল্লির দফতর থেকে বারবার ডেকে পাঠানো হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাত থেকে বাঁচতে আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থও হয়েছিলেন এই পুলিশ আধিকারিক। তবে শেষ রক্ষা হলো না। ভোট পর্ব মিটতেই বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা নাগাদ তিনি নিজেই সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন। কিন্তু বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় রাতেই গ্রেপ্তারির সিলমোহর পড়ে।
ইডির গোয়েন্দা সূত্রে খবর, সোনা পাপ্পু এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের সঙ্গে ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের সরাসরি আর্থিক লেনদেনের জোরালো প্রমাণ মিলেছে। আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যবসায়ী জয় কামদারের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা নথিতেও শান্তনুর নাম ও আর্থিক যোগসূত্র পাওয়া যায়। এছাড়া বালি পাচার মামলার তদন্তেও শান্তনুর নাম জড়িয়েছে বলে সূত্রের খবর। তিনি যাতে কোনোভাবেই দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, তার জন্য আগেই তাঁর বিরুদ্ধে ‘লুক আউট নোটিস’ জারি করে রেখেছিল ইডি।
গত মাসেই সোনা পাপ্পু মামলার সূত্র ধরে ফার্ন রোডে শান্তনুর আবাসে হানা দিয়েছিল ইডি। ভোর থেকে শুরু হয়ে সেই তল্লাশি অভিযান চলেছিল রাত ২টো পর্যন্ত। সেই অভিযানের পর শান্তনু ও তাঁর দুই পুত্র সায়ন্তন ও মণীশকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হলেও তাঁরা হাজিরা দেননি। শান্তনুর আইনজীবী ইডি দপ্তরে গিয়ে ভোটের ডিউটি ও অন্যান্য কাজের কারণ দেখিয়ে বাড়তি সময় চেয়েছিলেন।কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর এড়ানো গেল না গ্রেপ্তারি। কলকাতা পুলিশের একজন পদস্থ কর্তাকে কেন্দ্রীয় সংস্থার এভাবে গ্রেপ্তারের ঘটনা রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
