উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ রশিদের শট জালে জড়িয়ে যেতেই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। ইস্টবেঙ্গলের কোচ হিসেবে প্রথম মরসুমের শুরুতেই ট্রফি জয়ের সুবর্ণ সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর দল। এসসি দিল্লিকে টাইব্রেকারে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে হারিয়ে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল লাল-হলুদ ব্রিগেড (East Bengal beats SC Delhi)। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে মুখোমুখি হবে মোহনবাগান ও নর্থইস্ট ইউনাইটেড ম্যাচের জয়ী দল।
কাগজে-কলমে এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলকে অনেকটাই এগিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে ম্যাচের প্রথমার্ধে সহজ গোল করার সুযোগ পেয়েছিল দিল্লিই। লাল-হলুদ শিবির যাঁকে নিয়ে সবথেকে বেশি আতঙ্কিত ছিল, সেই রদ্রিগুইনহোর ভুলেই শেষ পর্যন্ত স্বস্তি পায় ইস্টবেঙ্গল।
ম্যাচের শুরু থেকেই এডমুন্ড, জেসিন, রশিদদের পায়ে আক্রমণ শানাতে শুরু করে ইস্টবেঙ্গল। ১৬ মিনিটের মাথায় ফ্রি-কিক থেকে রশিদের একটি দুর্দান্ত শট বারে লেগে প্রতিহত হয়। এর তিন মিনিট পর, ১৯ মিনিটে জেসিনের শটও বারে লেগে ফিরে এলে মনে হচ্ছিল ভাগ্য যেন লাল-হলুদের সহায় নয়। এরপর ৩৩ মিনিটের মাথায় বক্সের মধ্যে দিল্লির রদ্রিগুইনহোকে ফাউল করেন সন্দীপ মান্ডি, যার ফলে পেনাল্টি পায় দিল্লি। কিন্তু রদ্রিগুইনহোর নেওয়া অত্যন্ত দুর্বল শট অনায়াসে প্রতিহত করেন গোলরক্ষক প্রভসুখন গিল।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণের ঝড় ওঠে। জয় নিশ্চিত করতে লালচুংনুঙ্গা, ডেভিড এবং ইকনমিডিসকে মাঠে নামান কোচ হাবাস। ৭৪ মিনিটের মাথায় রশিদের আরও একটি শট পোস্টে লেগে বাইরে চলে যায়। ফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।
ডুরান্ডের নিয়ম অনুযায়ী ৯০ মিনিটে খেলা অমীমাংসিত থাকায় ম্যাচ গড়ায় সরাসরি টাইব্রেকারে। সেখানে দিল্লির প্রথম শট মারতে এসে মিস করেন পেনা। রদ্রিগুইনহোর মতোই তাঁর শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দিল্লির বাকি চার ফুটবলার গোল করলেও সেই প্রথম ভুলের খেসারত দিতে হয় তাদের।
অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গলের হয়ে টাইব্রেকারে সফল শট নেন আনোয়ার আলি, রোহিত দানু, লালচুংনুঙ্গা, ইকনমিডিস এবং শেষ শটে রশিদ। পুরো ম্যাচে দুই দু’বার বার ও পোস্টে লেগে রশিদের শট ফিরে এলেও, টাইব্রেকারের শট জালে জড়িয়ে যেতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে লাল-হলুদ শিবির। সেই শটের সুবাদেই ডুরান্ডের ফাইনাল নিশ্চিত করল ইস্টবেঙ্গল।

