হিলি : সারাবছর যতই দূরত্ব থাকুক, ষষ্ঠী থেকে দশমী ভাব জমে ওঠে। শরিকদের একত্রিত করে এই দুর্গাপুজো (Durga Puja)। বাপঠাকুরদার ভিটেতে ফেরেন সন্তানেরা। অষ্টমীর অঞ্জলি থেকে বিজয়া সম্মিলনির অনুষ্ঠান—পুনর্মিলন ঘটায় হিলি (Hili) থানার বিনশিরা গ্রামের জোতদারবাড়ির (Jotdarbari) সদস্যদের। চলতি বছরেও সেখানে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ততা তুঙ্গে।
হিলি থানার তিওড়ের বিনশিরা গ্রামে ১৩৫৬ বঙ্গাব্দে দুর্গাপুজোর শুরু করেছিলেন জোতদার তিনকড়ি লাহা, শ্রীকৃষ্ণ লাহা, প্রাণকৃষ্ণ লাহা, শ্রীবাস লাহা। সেই থেকে রীতি মেনে সেখানে দশভুজার আরাধনা হয়ে আসছে। বৈষ্ণবমতে দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হয় জোতদারবাড়িতে। দুর্গাপুজো শুরুর আগে মহাদেবের পুজোর বিশেষ রীতি রয়েছে। এছাড়াও পাত পেড়ে অষ্টমীর খিচুড়ি প্রসাদ বিতরণ করা হয়। ইতিমধ্যেই প্রত্যেক বছরের মতো এবছরও সেজে উঠছে দুর্গা মন্দির। দেবীপ্রতিমায় ঘোলা মাটির শেষ প্রলেপ পড়েছে। পুরনো মন্দিরের সামনে অস্থায়ী শামিয়ানা তৈরি করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে।
উনিশ শতকে ওই জোতদাররা পারিবারিকভাবে দুর্গাপুজোর সূচনা করেছিলেন। জোতদারি প্রথা বিলোপের পরে মন্দির সংলগ্ন দুটি পুকুর জোতদারবাড়ির দুর্গাদেবীর নামে করা হয়। প্রত্যেক বছর ওই পুকুর দুটির মাছ চাষের লভ্যাংশ থেকে দুর্গাপুজোর আয়োজন করেন ওই পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে ওই পুজোর দায়িত্ব সামলান জোতদারবাড়ির চার নাতি সনৎ লাহা, সুজিত লাহা, দীপক লাহা, সুবর্ণ লাহার। পুজো উপলক্ষ্যে দশমীর পরের দিন বিজয়া সম্মিলনি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তাঁরা।
এ প্রসঙ্গে জোতদারবাড়ির সদস্য পুতুল মহন্ত লাহা বলেন, ‘মায়ের পুজোকে কেন্দ্র করে বাইরে থাকা ছেলেরা এবং বিয়ে হওয়া মেয়েরা বাড়িতে কয়েকটা দিনের জন্য ফিরে আসে। পুজোমণ্ডপ শরিকদের, আত্মীয়স্বজন সবাইকে একত্রিত করে। সারাবছর দূরত্ব থাকলেও পুজো রীতিমতো মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়।’ পুজোর সময় পরিবারের সকলে মণ্ডপেই থাকে। বাকি সময়গুলো বাইরে ঘোরাঘুরি হয়। পুজোর ক’টা দিন পরিবার, পরিজন, পাড়াপ্রতিবেশী সকলে মিলে আনন্দে মেতে ওঠে বলে জানান তিনি।
জোতদারবাড়ির আরেক সদস্য পীযূষকান্তি লাহা বলেন, ‘ঠাকুরদারা এই পুজো শুরু করেছিলেন। জোতদারবাড়ির পারিবারিক পুজো ছিল। উত্তরসূরিরা রীতি মেনে পুজো করে আসছি। মায়ের নামে দুটি পুকুর রয়েছে। ওই পুকুরের মাছ চাষের লভ্যাংশ থেকে পুজোর আয়োজন করা হয়। তবে এখন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমরাও কিছু অর্থ দিই। তাছাড়াও অনেকে মানত দান করেন। আত্মীয়স্বজন সহ প্রতিবেশীরাও পুজোয় অংশগ্রহণ করেন। পুজো আমাদের পুনর্মিলন ঘটায়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়।’ হইহই আনন্দে পুজোর দিনগুলি কেটে যায় বলে জানান তিনি।

