পিকাই দেবনাথ, কামাখ্যাগুড়ি: ঝোপঝাড়ে ঘেরা কামাখ্যাগুড়িতে একসময় কয়েকজনের হাত ধরে ছোট পরিসরে যে দুর্গাপুজোর সূচনা হয়েছিল, আজ তা ১০৯ বছরে পা দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে বদলেছে কামাখ্যাগুড়ির (Kamakhyaguri) চেহারা, বদলেছে পুজোর আয়োজনও। তবে শতাব্দীপ্রাচীন হরিবাড়ি দুর্গাপুজোকে (Durga Puja 2026) ঘিরে স্থানীয় মানুষের আবেগ ও ঐতিহ্য আজও অটুট। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই পুজো কামাখ্যাগুড়ির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।
কামাখ্যাগুড়ির প্রাচীনতম দুর্গাপুজো হরিবাড়ির পুজো। একসময় কামাখ্যাগুড়ির গোটা এলাকা ছিল জঙ্গলে পরিপূর্ণ। সেই সময় কয়েকজন স্থানীয় মানুষ মিলে অল্প পরিসরে পুজোর সূচনা করেন। পুজোকে কেন্দ্র করে মন্দির প্রাঙ্গণে বসত স্থানীয় মেলা। সেই সময় বিদ্যুতের আলো বা আধুনিক আলোকসজ্জার চল ছিল না বললেই চলে। দিনেরবেলাতেই অধিকাংশ মানুষ প্রতিমা দর্শনে আসতেন। রাত নামলে কামাখ্যাগুড়ির অন্ধকার এলাকায় পুজো দেখতে আসার প্রবণতা ছিল কম।
সময়ের সঙ্গে বদলেছে পরিস্থিতি। একচালা ঘর থেকে পাকা মন্দির, সাধারণ প্রতিমা থেকে শিল্পীর নিখুঁত কারুকাজ, সামান্য আলোকসজ্জা থেকে আধুনিক আলোর ঝলকানি—সবকিছুরই সাক্ষী এই পুজো।
এ বছর হরিবাড়ি দুর্গাপুজো কমিটির পুজো ১০৯ বছরে পদার্পণ করেছে। শতবর্ষ পেরোনো এই পুজোকে ঘিরে কামাখ্যাগুড়িতে উৎসাহ অটুট। শুধু কামাখ্যাগুড়ি বা আলিপুরদুয়ার জেলা নয়, পার্শ্ববর্তী কোচবিহার জেলা এবং অসমের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও দর্শনার্থীরা এই প্রাচীন পুজো দেখতে আসেন বলে উদ্যোক্তাদের দাবি। এবার পুজোর বাজেট প্রায় ৯ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা। পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে মণ্ডপ। উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আমেরিকার স্বামীনারায়ণ অক্ষরধামের আদলে মণ্ডপ তৈরি করা হবে। ধূপগুড়ির শিল্পী দেবরাজ পাল মণ্ডপ তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন। ইতিমধ্যেই মণ্ডপ নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
কামাখ্যাগুড়ির প্রতিমাশিল্পী সুকুমার পাল প্রায় ১৪ ফুট উচ্চতার প্রতিমা তৈরি করছেন। মণ্ডপ, প্রতিমা ও আলোকসজ্জার সমন্বয়ে এবারের পুজো দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। হরিবাড়ি দুর্গাপুজো কমিটির সম্পাদক প্রীতম কর্মকার বলেন, ‘এই পুজোকে কেন্দ্র করে কামাখ্যাগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের আবেগ ও স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। পাশের জেলা কোচবিহার এবং অসমের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মানুষ এই পুজো দেখতে ভিড় জমান। আমরা প্রতিবছরের মতো এ বছরও সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পুজো সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর।’ প্রাচীন এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ প্রসাদ বিতরণ। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত প্রতিদিন পুজোমণ্ডপে খিচুড়ি বিতরণের আয়োজন থাকে। পুজোর চারদিন মন্দির প্রাঙ্গণে আত্মীয়পরিজন ও পরিচিতদের সঙ্গে মিলিত হন স্থানীয়রা। পুরোনো স্মৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের উৎসাহ মিলিয়ে হরিবাড়ির পুজো হয়ে ওঠে এক মিলনমেলা।

