প্রণব সূত্রধর, আলিপুরদুয়ার: বেলুড় মঠের নিয়ম-নির্দেশিকা মেনে আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) রামকৃষ্ণ আশ্রমে এবারও কুমারীপুজো অনুষ্ঠিত হবে। মালদা থেকে আসবেন তন্ত্রধারক ও প্রধান পুরোহিত সহ ১০ জন। এছাড়া আশ্রমিক পড়ুয়ারা পুজোর (Durga Puja 2026) কাজ করবেন। চণ্ডীপাঠ করবেন সারগাছির রামকৃষ্ণ আশ্রমের তপনিষ্ঠানন্দজি মহারাজ।
এখানে বেলুড় মঠের (Belur Math) আদলে একচালা ডাকের সাজের প্রতিমা তৈরি করা হয়। রামকৃষ্ণ আশ্রমের দুর্গাপুজো মা সারদার নামে নিবেদন করার রীতি মেনে চলা হয়। সন্ধ্যা আরতিতে তিনজন পুরোহিত অংশ নেন।
মহালয়ার দিন থেকে পুজো পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যায় রামকৃষ্ণ আশ্রমে আগমনী গানে মুখরিত হয়ে ওঠে আশ্রম প্রাঙ্গণ। মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্র ও ভক্তিগীতি পরিবেশিত হয় আরাত্রিকায়। সেই সময় আশ্রমে ভক্তসমাগমও বাড়ে। এবছর বেলুড় মঠের নিয়মরীতি ও বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে রামকৃষ্ণ আশ্রমের ২৩তম পুজো অনুষ্ঠিত হবে। নিয়ম মেনে উলটোরথের দিন কাঠামোপুজো করা হয়েছিল। তারপর প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়।
চলতি বছর আশ্রমে আদৃতি ভট্টাচার্য কুমারীরূপে পূজিত হবে। এখন থেকেই পুজোর নিয়ম-নির্দেশিকা মেনে চলছে আদৃতি। ছোটবেলা থেকেই পুজোর অনুষ্ঠানের প্রতি ঝোঁক রয়েছে তার। বিভিন্ন সময় কুমারীপুজোর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে আদৃতি ও তার পরিবারের লোকজন।
বেলুড় মঠের ধাঁচে রামকৃষ্ণ আশ্রমের কুমারীকে লাল বেনারসি শাড়ি, পায়ে আলতা আর হাতে পদ্ম ফুল দিয়ে দেবী দুর্গার সাজে সাজানো হয়। পুজোর কয়েক মাস আগে থেকেই কুমারীর খোঁজ করা শুরু হয়ে যায়। কুমারী ও অভিভাবকদের নিয়ম-নির্দেশিকা জানিয়ে দেওয়া হয়। পুজোর দিন কুমারীর মধ্যে মাতৃশক্তির আরাধনা করে থাকেন ভক্তরা। অষ্টমীর দিন কুমারীপুজো দেখতে ভক্তদের ঢল নামে। কুমারীকে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার অভ্যাস করতে হয়। পুজোর আগে নিরামিষ খাওয়ার অনুশাসন মেনে চলতে হয়।
পুজোয় চালকুমড়ো ও ফল বলি দেওয়ার রীতি রয়েছে। ষষ্ঠী ও সপ্তমীতে নিরামিষ ভোগ হলেও অষ্টমী ও তার পর সন্ধিপুজোয় কয়েক রকমের মাছ দিয়ে আমিষ ভোগ দেওয়া হয়। প্রতিমার মধ্যে সরস্বতী ও দেবী দুর্গার গায়ের রং সাদা এবং অসুরের গায়ের রং সবুজ হয়ে থাকে। দুর্গাপুজোর পর লক্ষ্মীপুজো করার রীতি রয়েছে আশ্রমে।
পুজোর উপকরণ বেলুড় মঠ ছাড়াও বিভিন্ন মঠ থেকে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। পুজো কমিটির কাছ থেকে জানা গিয়েছে, দেবী দুর্গার মহাস্নানের উপকরণ বিভিন্ন আশ্রম থেকে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। কোচবিহার, মালদা, এমনকি কলকাতার রামকৃষ্ণ আশ্রম থেকে পুজোর উপকরণ আনা হয়। বিশেষ করে সরস্বতী নদীর জল, সর্বতীর্থের জল সহ মোট ১৭ রকমের জল এবং অশ্বদন্ত মাটি, বৃষশৃঙ্গ মাটি, বেশ্যাদ্বারের মাটি, গজদন্তের মাটি, গঙ্গা ও সাগরের মাটি সহ মোট ১৯ রকমের মাটি দিয়ে দেবীকে মহাস্নান করানো হয়। পঞ্চমীর দিন থেকে ১০৫টি করে পান প্রয়োজন হয়। নিমকির আদলে সেই পান সাজা হয়।
আলিপুরদুয়ার রামকৃষ্ণ আশ্রমের সম্পাদক কমলেশচন্দ্র সেন বলেন, ‘বেলুড় মঠের নিয়ম-নির্দেশিকা মেনে পুজো করা হয়। অনেক ভক্ত পুজোর সময় উপোস করেন। তাই এবছর দুপুর ১২টা থেকেই প্রসাদ বিতরণ করা হবে।’

