Durga Puja 2025 | কোচবিহারে মেয়েদের উদ্যোগে পুজোর সংখ্যা বাড়ছে 

Durga Puja 2025 | কোচবিহারে মেয়েদের উদ্যোগে পুজোর সংখ্যা বাড়ছে 

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


দেবদর্শন চন্দ, কোচবিহার: চাঁদা তোলা থেকে পুজোর আয়োজন, মণ্ডপসজ্জার ঝক্কি, ভোগ বিতরণ থেকে বাজারের ফর্দ– সবেতেই নিজেদের প্রতিভার পরিচয় দিচ্ছেন কোচবিহারের পারমিতা, ডলি, সোমা ও শম্পারা। তাঁদের কেউ শিক্ষিকা, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ সরকারি চাকরিজীবী, কেউ আবার গৃহকর্ত্রী। পরিবারের রোজকার দায়িত্ব সামলে এঁরা পুজো (Durga Puja 2025)-র আয়োজনে উদ্যোগী। একসময় শহরে মহিলা পরিচালিত পুজোর সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। কিন্তু ধীরে ধীরে শহর এবং শহরতলিতে মহিলা পরিচালিত পুজোর সংখ্যা বেড়েছে।

ব্লকে ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের কাজ করেন পারমিতা মৈত্র। নিজের কাজ সামলে এবার পুজোর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। রাজমাতা স্ট্রিটের মহিলা পরিচালিত ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি’ পুজো কমিটির সম্পাদিকা তিনি। এবার তাঁদের পুজোর ২৬তম বর্ষে কাল্পনিক মন্দিরের আদলে মণ্ডপসজ্জার কাজ চলছে। পুজোর বাজেট তিন লক্ষ টাকা। সাবেকি প্রতিমার পাশাপাশি পুজো উপলক্ষ্যে এলাকার ছোট থেকে সকল বয়সি মানুষকে নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তাঁদের পুজোর মূল আকর্ষণ।

পূর্ত দপ্তরে কাজ করেন শম্পা নিয়োগী। তিনিও নিজের কাজের পাশাপাশি পরিবার সামলে মাতৃ আরাধনায় শামিল হয়েছেন। শহরতলির টাকাগাছ সংকল্প মহিলা পরিচালিত পুজোর সঙ্গে তিনি যুক্ত। এবার এই পুজো ৩০তম বর্ষে পদার্পণ করল। পুজোর থিম ‘জ্ঞানতীর্থের জ্যোতি নালন্দা’। প্রাচীনকাল থেকে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা তুলে ধরাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। পুজোর বাজেট ৭ লক্ষ টাকা। মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৌদ্ধ আঙ্গিকে থাকবে দেবীর মূর্তি। পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সুপ্রভাত ভট্টাচার্য বলেন, ‘আজকাল মহিলারা কি না পারেন? তাই পুরুষদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরাও গত ২৯ বছর ধরে পুজোর আয়োজন করছি।’

ইউনাইটেড বাজারের মাঠ কমিটির পুজো এবছর ১২তম বর্ষে পদার্পণ করছে। তাদের থিম পুরীর জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা। দিন এগিয়ে আসায় পাড়ার মাঠে জগন্নাথ দেব, বলরাম এবং সুভদ্রার রথ তৈরির কাজ জোরকদমে চলছে। তাদের পুজোয় শুধুমাত্র প্যান্ডেলে যে চমক থাকছে তা নয়, মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল মন্দিরে থাকছে ডাকের সাজের প্রতিমা। পুজোর বাজেট ৫ লক্ষ টাকা। পুজো কমিটির সদস্য সোমা চন্দ এবং রিংকু দত্তও স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। নিজেদের কাজ এবং সংসার সামলে তাঁরাও পাড়ার পুজোর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

হারিয়ে যাওয়া ‘চিঠি’-কে থিম করে মাতৃ আরাধনায় ব্রতী হয়েছে খাগড়াবাড়ি মিলন সংঘ। এই পুজো এবার ২২তম বর্ষে পড়ল। প্রথম দিন থেকেই পাড়ার মহিলারা মিলে এই পুজোর আয়োজন করে আসছেন। এবারও সুসজ্জিত প্রতিমার পাশাপাশি গোটা এলাকাজুড়ে থাকবে আলোকসজ্জা। নিয়মরীতি মেনে এই পুজোর আয়োজন করছেন এলাকার মহিলারা। এবার তাঁদের পুজোর বাজেট রয়েছে চার লক্ষ টাকা। পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষা সুমিতা আইচ বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে চিঠি আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। তাই নতুন প্রজন্মকে বার্তা দিতেই আমরা এই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছি।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *