উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যপালের ঘরেই গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ উঠল। কর্ণাটকের রাজ্যপাল (Karnataka Governor) থাওয়ারচাঁদ গেহলটের নাতবউ দিব্যা গেহলট শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে মানসিক, শারীরিক নির্যাতন, হেনস্তা, খুনের চেষ্টা এবং তাঁর শিশুকন্যাকে অপহরণের অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।
মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) উজ্জয়িনীতে থাকেন রাজ্যপালের নাতি দেবেন্দ্র। জানা গিয়েছে, অশান্তির পর রতলামে বাপের বাড়ি চলে গিয়েছেন দিব্যা। সেখানেই রয়েছেন তিনি। রতলামের পুলিশ সুপার অমিত কুমারের কাছে শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। দিব্যার আর্জি, তাঁর চার বছরের কন্যাকে জোর করে উজ্জয়িনীতে নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছেন শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। সন্তানকে তাঁর কাছে ফিরিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আর্জি জানান তিনি। স্বামী দেবেন্দ্র, শ্বশুর জিতেন্দ্র (প্রাক্তন বিধায়ক), দেওর বিশাল, দেবেন্দ্র ঠাকুরমা অনিতার বিরুদ্ধে পণের জন্য মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। ৫০ লক্ষ টাকা পণ চেয়ে নানাভাবে নির্যাতন করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন দিব্যা।
২০১৮ সালে ২৯ এপ্রিল দেবেন্দ্রের সঙ্গে বিয়ে হয় দিব্যার। দিব্যার অভিযোগ, তাঁর স্বামী মাদকাসক্ত। শুধু তাই নয়, দেবেন্দ্রের একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কেরও অভিযোগ তুলেছেন দিব্যা। বিয়ের পর থেকেই পণের (Dowry Harassment) জন্য স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাঁর উপর অত্যাচার শুরু করেন বলে দাবি করেন তিনি। অভিযোগপত্রে দিব্যা জানিয়েছেন, গত ২৬ জানুয়ারি মত্ত অবস্থায় বাড়ি ফেরেন দেবেন্দ্র। তারপর শুধু হয় মারধর। তাঁকে ছাদ থেকে ঠেলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় তিনি মেরুদণ্ড, কাঁধ, কোমরে গুরুতর চোট পান। তারপরও তাঁর চিকিৎসার কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। পরে তাঁকে একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় ইন্দোরের একটি বড় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। দিব্যার অভিযোগ, স্কুল থেকে মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়েছেন শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। গত নভেম্বরে মেয়েকে স্কুলে আনতে গিয়েছিলে তিনি। তখন তাঁর স্বামী বলেন, ‘পণের টাকা না আনলে মেয়েকে পাবে না।’ রতলাম পুলিশ দিব্যার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যদিও এবিষয়ে মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন বিধায়ক তথা দিব্যার শ্বশুর জিতেন্দ্র গেহলটের দাবি, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে কর্ণাটকের রাজ্যপাল হন থাবরচন্দ। ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন। দ্বিতীয় মোদি সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন তিনি।
