Donald Trump | হারার ভয়েই কি পিছু হঠল ট্রাম্প শিবির? ইরানে হামলা নিয়ে মার্কিন হাউসে ভোট বাতিল

Donald Trump | হারার ভয়েই কি পিছু হঠল ট্রাম্প শিবির? ইরানে হামলা নিয়ে মার্কিন হাউসে ভোট বাতিল

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযানের তোড়জোড় শুরু করতেই ঘরের মাঠে প্রবল চাপের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভস’-এ ইরান যুদ্ধ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভোটাভুটিতে হারের আশঙ্কায় শেষ মুহূর্তে সেই ভোট প্রক্রিয়াই বাতিল করে দিল শাসক দল রিপাবলিকান (Republicans) পার্টি। যা নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে এই মুহূর্তে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণার একচ্ছত্র ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ এবং তাঁর যুদ্ধংদেহী মনোভাবের নিন্দা জানিয়ে হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভসে একটি প্রস্তাব এনেছিলেন বিরোধী ডেমোক্র্যাট (Democrats) পার্টির সদস্যরা। নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি তথা বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক হাউস কমিটির সদস্য গ্রেগরি মিকস এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। কিন্তু ভোটাভুটির সময় শাসক দল রিপাবলিকান পার্টির বহু সদস্য অনুপস্থিত থাকায় বেগতিক বুঝে আসরে নামেন ট্রাম্প অনুগামীরা। তাঁরা ভোট নিয়ে আপত্তি তোলায় সাময়িকভাবে ভোট স্থগিত করে দেওয়া হয়।

শাসক দলের এই পিছু হঠাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে বিরোধী শিবির। মার্কিন হাউসের তিন শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা— হাকিম জেফ্রিস, হুইপ ক্যাথরিন ক্লার্ক এবং ককাস চেয়ার পিট অ্যাগুইলার যৌথ বিবৃতিতে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, “রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা হাউস এখন ট্রাম্প প্রশাসনের একটি হাতের পুতুল বা সহযোগী সংস্থায় পরিণত হয়েছে। কাপুরুষের মতো ওরা নির্ধারিত ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজ়োলিউশন’-এর ভোট বাতিল করল। এই আইনটি পাস হলে ট্রাম্প পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ থামাতে বাধ্য হতেন।”

যদিও হাউস স্পিকার তথা রিপাবলিকান নেতা মাইক জনসন জানিয়েছেন, আগামী জুন মাসে এই বিষয়ে ভোটাভুটি হতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালের ‘যুদ্ধ ক্ষমতা আইন’ (Conflict Powers Act) অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শুরু হওয়া যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের একটি সময়সীমা থাকে। এরপর সেনা প্রত্যাহারের জন্য আরও ৩০ দিন সময় পাওয়া যায়। কিন্তু নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতে গেলে কংগ্রেসের আগাম অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছিল মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। নিয়ম মেনে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে তা জানানোও হয়েছিল। কিন্তু সেই ৬০ দিনের সময়সীমা এবার শেষের মুখে। অথচ, ট্রাম্প সরকার এখনও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য কংগ্রেসের কোনো সবুজ সংকেত নেয়নি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইরানে নতুন করে বড়সড় হামলার ছক কষছে পেন্টাগন। তবে ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী নীতির বিরুদ্ধে শুধু ডেমোক্র্যাটরাই নয়, খোদ রিপাবলিকান সেনেটর এবং হাউস মেম্বারদের একটা বড় অংশও এবার বেঁকে বসেছেন। ঘরের ভেতরে ও বাইরে এই দ্বিমুখী চাপ ট্রাম্প প্রশাসন কীভাবে সামাল দেয়, এখন সেটাই দেখার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *