Donald Trump | মস্কোর ডিজেল চুক্তিতে চটেছেন জেলেনস্কি, পালটা কিয়েভে শীর্ষপদ বদলের দাবি ট্রাম্পের

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: গাড়ির তেলের আকাশছোঁয়া দাম আর বাজারের চরম অস্থিরতা সামলাতে ক্রেমলিনের দ্বারস্থ হয়েছে হোয়াইট হাউস। ভ্লাদিমির পুতিনের (Vladimir Putin) সঙ্গে দীর্ঘ ফোনালাপের পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) মস্কো থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানির ঘোষণা করেছেন। প্রাথমিক চুক্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, রাশিয়ার ওপর বাণিজ্যিক বাধানিষেধ কিছুটা শিথিল করা হবে। এরপর মার্কিন বাজারে তিন লক্ষ টন ডিজেল পাঠাবে রাশিয়া। তবে ভূ-রাজনীতির ময়দানে এই ঘটনা নতুন এক অগ্নিকাণ্ড ঘটাল। আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলাকালীনই ওয়াশিংটনের এই বাণিজ্যিক সমঝোতাকে কড়া ভাষায় বিঁধেছেন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপ্রধান ভলোদিমির জেলেনস্কি (Volodymyr Zelensky)। তাঁর সাফ বক্তব্য, ক্রেমলিনকে সুবিধাজনক ছাড় দেওয়া মানে আসলে পুতিনের যুদ্ধ তহবিলে পরোক্ষ মদত জোগানো।

জেলেনস্কির এই খোলাখুলি সমালোচনায় বেজায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, কিয়েভের মসনদে এখন এমন এক নেতৃত্বের প্রয়োজন যিনি বাস্তবসম্মত চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারেন। এমনকি ইউক্রেনের এই দুর্দশার জন্য জেলেনস্কির ব্যর্থতাকেই দায়ী করেন তিনি। ট্রাম্প দাবি করেন, ২০২২ সালে তিনি যদি আমেরিকার শীর্ষপদে বসতেন, তবে কোনো অবস্থাতেই এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতো না। তাঁর মতে, চরম অদক্ষতার কারণেই ইউক্রেন ভূখণ্ডের ৩০ শতাংশ হারিয়ে ফেলেছে এবং প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ।

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের দীর্ঘ বিবৃতিতে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে চরম ‘দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে জেলেনস্কি তোপ দেগে লিখেছিলেন, পুতিনকে তোষণ করে কখনও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এ জাতীয় সুযোগ পেয়ে মস্কো আবার কোনও নতুন চক্রান্ত সাজাবে এবং নতুন করে হিংসা ছড়াবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। বস্তুত, এই বাকযুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনের জনবসতিতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ঘরোয়া মার্কিন রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা। ৩ নভেম্বর আমেরিকায় জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। জ্বালানির দাম না কমলে ভোটে রিপাবলিকান পার্টির পারফরম্যান্সে চরম প্রভাব পড়তে পারে এবং হাতছাড়া হতে পারে কংগ্রেসে তাদের একচ্ছত্র প্রাধান্য। সে কারণে কূটনৈতিক ঝুঁকি নিয়েও ট্রাম্প দ্রুত তেলের দাম কমানোর ব্যবসায় নামেন। পাল্টা আক্রমণ আসতেই যেভাবে ট্রাম্প জেলেনস্কির স্থলাভিষিক্ত খোঁজার বার্তা দিলেন, তাতে ওয়াশিংটন-কিয়েভ সমন্বয়ে যে বড়সড় ফাটল ধরেছে, তা এখন পরিষ্কার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *