Dinhata Saraswati Puja | সরস্বতীপুজোর বাজার যেন স্মৃতির অ্যালবাম

Dinhata Saraswati Puja | সরস্বতীপুজোর বাজার যেন স্মৃতির অ্যালবাম

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


দিনহাটা চওড়াহাট বাজারে এখন লেগেছে সরস্বতীপুজোর ছোঁয়া। প্রতিদিন এখানে গল্প তৈরি হচ্ছে মা ও মেয়ের অতীত আর বর্তমানের। ছোট ছোট শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে জমে থাকছে সরস্বতীপুজোর জন্য অনন্ত প্রতীক্ষা।

অমৃতা দে, দিনহাটা: বসন্তের হালকা রোদ গায়ে মেখে দিনহাটার চওড়াহাট বাজারে ঢুকতেই বোঝা যায়, সরস্বতীপুজো (Dinhata Saraswati Puja) আর বেশি দূরে নেই। দোকানের সামনে ঝুলছে ছোট ছোট শাড়ি, সাদা-হলুদে ভরা। কোথাও গোলাপি, কোথাও আকাশি, আবার কোথাও রঙিন পাড়ে ঝলমলে কাজ। বাজারের ভিড়ের মাঝেই দাঁড়িয়ে আছে আট বছরের রিমঝিম, মায়ের হাত ধরে। চোখ দুটো আটকে আছে এক টুকরো জামদানি শাড়িতে।

রিমঝিমের মা মৃদু হেসে বললেন, নিজের শৈশবের সরস্বতীপুজোটা আবার যেন মেয়ের মধ্যে ফিরে পাচ্ছি। আমরাও তো এভাবেই শাড়ি পরে পুজো দিতাম। কথার ফাঁকে ফাঁকে দোকানিকে দাম জিজ্ঞেস করছেন তিনি। দোকানি জানালেন, ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০০ টাকার মধ্যেই মিলছে বাচ্চাদের শাড়ি।

চওড়াহাটের এক পুরোনো কাপড় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম দোকানের শাড়ি গোছাতে গোছাতে বললেন, ‘এখন সরস্বতীপুজো (Saraswati Puja) মানেই ছোটদের শাড়ি। জামদানি, কাঁথা স্টিচ আর হালকা সিল্ক সবই রাখছি। বাচ্চাদের মায়েরাই সবচেয়ে বেশি খোঁজ নিচ্ছেন।’ তাঁর কথায় স্পষ্ট, এই কয়েকটা দিনই বাজারের সবথেকে ব্যস্ত সময়।

বাজারের অন্য প্রান্তে দেখা গেল আরেক দৃশ্য। ছোট মেয়ে হাত দিয়ে শাড়ির আঁচল ছুঁয়ে দেখছে। আর বাবা মোবাইল ক্যামেরায় সেই মুহূর্ত বন্দি করছেন। ছোট মেয়ের বাবা অনিকেত রায় হাসতে হাসতে বললেন, ‘এগুলোই তো স্মৃতি হয়ে থাকবে। কয়েক বছর পর এই ছবিগুলো দেখেই বুঝবে, ছোটবেলায় সরস্বতীপুজো কেমন ছিল।’

দিনহাটার (Dinhata) এক তরুণ বিক্রেতা অনির্বাণ পাল কথায় কথায় বলছিলেন, ‘শেষ তিন-চারদিনে বিক্রি হুহু করে বাড়ে। বিশেষ করে সাদা-হলুদ আর হালকা রংয়ের শাড়ির চাহিদা সবচেয়ে বেশি।’ তাঁর দোকানে তখনও দুজন মা মেয়েকে নিয়ে শাড়ি পছন্দ করতে ব্যস্ত।

বাজারে হাঁটতে হাঁটতে বোঝা যায়, এই শাড়ি শুধু একটা পোশাক নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আবেগ, স্মৃতি আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এক সংস্কৃতি।

পাপিয়া রায় নামে এক অভিভাবক বললেন, ‘আজকাল ফ্রক, গাউন সবই আছে। কিন্তু সরস্বতীপুজোতে শাড়ির যে আলাদা অনুভূতি, সেটা আর কোথাও নেই।’

দিনহাটা আর চওড়াহাটের বাজার তাই এখন শুধুই কেনাবেচার জায়গা নয়। এখানে গল্প তৈরি হচ্ছে মা ও মেয়ের, অতীত আর বর্তমানের। ছোট ছোট শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে জমে থাকছে আরেকটা সরস্বতীপুজোর অপেক্ষা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *