নাগরাকাটা: হড়পা বানে কালীখোলা (Kalikhola) নদীর ওপর সেতু ভেঙেছিল (Bridge Collapse) গত বছরের বন্যায়। যার ফলে এতদিন বাধ্য হয়েই নদীর পার করেই স্কুলে যাতায়াত চলত পড়ুয়াদের। তবে শনিবার সন্ধ্যে থেকে প্রবল বৃষ্টির পর ওই নদী এখন জল থইথই। বাধ্য হয়ে ছাত্র ছাত্রীদের পিঠে চাপিয়ে স্কুলে নিয়ে এসে ফের বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন শিক্ষকেরা!
ঘটনাটি চ্যাংমারি চা বাগানের মানা লাইনের সরকারি প্রাথমিক স্কুলের। রবিবারের যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসার পথেও ক্ষুদে পড়ুয়ারা নদীর পাড়ে আটকে যায়। অগত্যা ত্রাতার ভূমিকায় এগিয়ে আসেন মাস্টার মশাইরা। প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক কিশোর লামা এই বিষয়ে বলেন,“বর্ষার শুরুতেই এই অবস্থা। এরপর কি হবে জানা নেই। তখন শিক্ষকরাও নদী পেরিয়ে স্কুলে আসতে পারবে না। ছাত্রছাত্রীদের তো প্রশ্নই নেই। সেতু পুনর্নিমাণ অত্যন্ত জরুরী।”
শনিবার সন্ধ্যায় লাগোয়া ভুটানে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে কালীখোলা নদীর জলস্তর বাড়ে। এর ফলে আশপাশে বন্যা পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা দেখা দেয়। রবিবার সকালে জলস্তর কিছুটা কমলেও নদীর স্রোত তখনও মারাত্মক ছিল। যার ফলে যাতায়াত করা দুষ্কর হয়ে দাঁড়ায়।
মানা লাইনে এই সমস্যা নতুন নয়। গত বছর ৫ অক্টোবরের ভয়াবহ প্লাবনের সময় গ্রামকে লোয়ার চ্যাংমারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্তকারী সেতুটি ভেসে যায়। তখন থেকেই গ্রামবাসী ও স্কুলের শিশুদের নদী পার হয়েই গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। এবার বর্ষার মরসুম শুরু হতেই সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে শুরু করল।
রবিবার যোগ দিবস (Yoga Day) উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যখন পড়ুয়ারা বিদ্যালয়ের দিকে রওনা হয় তখন নদীর রূপ দেখে খুদেরা ভয় পেয়ে যায়। শিশুদের সমস্যা ও নিরাপত্তার কথা ভেবে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একে একে প্রতিটি শিশুকে কাঁধে বা পিঠে চাপিয়ে নদী পার করান। ওই দৃশ্য দেখে স্থানীয়রাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। প্রধান শিক্ষক কিশোর লামা জানান, মানা লাইন থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬০ জন ছাত্রছাত্রী বিদ্যালয়ে আসে। সেতুর অভাবে বর্ষার দিনগুলি প্রত্যেকের কাছে চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা সুনীল ছেত্রী বলেন, “সেতু না থাকায় শুধু পড়ুয়াদেরই নয়, গ্রামবাসীরাও সমস্যায় রয়েছেন। বয়স্ক ও রোগীদের বাইরে যাতায়াত করা দূর্বিষহ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্রশাসন দ্রুত স্থায়ী সেতু তৈরিতে এগিয়ে আসুক।”
রবিবার শিক্ষকদের শিশুদের কাঁধে চাপিয়ে নদী পার করানোর ঘটনাটি সংবেদনশীল মানবিকতার পাশাপাশি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার হালকেও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল বলে মনে করছেন অনেকেই।

