দিনহাটা: ‘মা’। এই একটি শব্দেই লুকিয়ে রয়েছে মমতা, ত্যাগ আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক গভীর অনুভূতি। সন্তানদের কাছে বাবা-মা ভগবানের পরেই স্থান পান। সেই চিরন্তন মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের মধ্যে অক্ষুণ্ণ রাখতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে মাতালহাট উচ্চবিদ্যালয়। গত পাঁচ বছর ধরে স্কুলের বাৎসরিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আগে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ‘মাতৃপুজো’। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
বৃহস্পতিবার মাতালহাট উচ্চবিদ্যালয় চত্বরে দেখা যায় এক অন্যরকম আবেগঘন দৃশ্য। অনুষ্ঠান মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় মায়েদের পুজো। স্কুলের পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে সদ্য ভর্তি হওয়া প্রায় আড়াইশো ছাত্রছাত্রী এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। বৈদিক রীতি ও মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে তারা তাদের মায়েদের পুজো করে। মায়েরা আসনে বসে থাকেন, আর তাঁদের সামনে পুজোর থালা হাতে ধূপধুনো জ্বালিয়ে আরতি করে সন্তানরা। কপালে দেয় চন্দনের ফোঁটাও। এরপর মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে মায়েদের চারদিকে প্রদক্ষিণ করে সম্তানরা।
এই সম্পূর্ণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মালদার সারদা শিশুতীর্থের আচার্য পঙ্কজ সরকার। মাতৃপুজো শেষ হওয়ার পর এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। মায়েরা তাঁদের সন্তানদের জড়িয়ে ধরেন। পরে চলে মিষ্টিমুখের পালা। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সঞ্জীব সরকার বলে, ‘এই স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর এমন আয়োজন জীবনে প্রথম দেখলাম। মা আমাদের কাছে ভগবান, কিন্তু মায়ের পুজো করা যায়, এটা কখনও ভাবিনি। আমাদের শিক্ষকরা সেই সুযোগ করে দিয়েছেন।’
মাতালহাট উচ্চবিদ্যালয়ের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে থাকেন সকলে। এমন আয়োজনে ছাত্রছাত্রীরা যেমন আনন্দ পায়, তেমনই খুশি অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। প্রধান শিক্ষক সুশান্ত বর্মন বলেন, ‘প্রতি বছরই আমাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। কিন্তু পড়ুয়াদের মধ্যে বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান বাড়িয়ে তুলতে এই মাতৃপুজোর আয়োজন করা হয়।’
