Dinhata | দিনহাটা কলেজের অধ্যাপকের রহস্যমৃত্যু! দরজা ভেঙে দেহ উদ্ধার

Dinhata | দিনহাটা কলেজের অধ্যাপকের রহস্যমৃত্যু! দরজা ভেঙে দেহ উদ্ধার

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


দিনহাটা: দিনহাটা কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তথা বিভাগীয় প্রধান অমিতাভ দত্তের মৃত্যুতে শহরজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার রাত ১১টা নাগাদ তাঁর দিনহাটা পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুপাড়ার বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে মৃতদেহ উদ্ধার করেন পুলিশ ও দমকলকর্মীরা। তবে ঠিক কী কারণে অমিতাভের মৃত্যু হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। বৃহস্পতিবার কোচবিহার এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। দিনহাটার এসডিপিও ধীমান মিত্র বলেছেন, ‘ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে তবেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’

মৃত্যুর সময় বাড়িতে একাই ছিলেন অমিতাভ। তিনি ও তাঁর স্ত্রী দিন সাতেক আগে কলকাতায় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যান। স্ত্রীকে ছাড়াই অমিতাভ একা দিনহাটায় ফিরে আসেন। মঙ্গলবার তিনি কলেজেও গিয়েছিলেন। কিন্তু বুধবার দিনভর তাঁর কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। বাড়ির দরজা-জানলা বন্ধ ছিল। তাঁর স্ত্রী তাঁকে ফোনে না পেয়ে প্রতিবেশীদের খোঁজ নিতে বলেন। প্রতিবেশীরাও কলিং বেল বাজালেও অধ্যাপক দরজা খোলেননি। এরপর অমিতাভের স্ত্রী পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ প্রথমে দমকলের সহায়তায় বাড়ির গেট কাটে। এরপর ভেতরে ঢুকে শোয়ার ঘরের দরজা ভেঙে দেখে বিছানায় অমিতাভের নিথর দেহ পড়ে রয়েছে।

ফাঁকা বাড়িতে এভাবে অমিতাভের আচমকা মৃত্যুতে রহস্য দানা বেঁধেছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। কলেজের সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, আগে একবার অমিতাভের স্ট্রোক হয়েছিল। এবারও কী সেই কারণেই মৃত্যু হল, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও কারণ। যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর অবশ্য লুকিয়ে রয়েছে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে। প্রতিবেশী পুতুল দে বলেন, ‘তাঁর স্ত্রী আমাকে ফোন করে বলেন ঘরের সিসিটিভি ফুটেজে স্যরকে দেখা যাচ্ছে না। আমরা যেন একটু বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিই। আমাদের এক আত্মীয় খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করলেও সাড়া পাননি। এরপর স্যরের স্ত্রীকে সেটাই জানাই।’

ময়নাতদন্তের পর অমিতাভের দেহ দিনহাটা কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল আওয়াল সহ অন্য অধ্যাপকরা তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। অধ্যক্ষ বলেন, ‘ছাত্রদের অন্যতম প্রিয় অধ্যাপক অমিতাভবাবু ভীষণ দায়িত্ববান শিক্ষক ছিলেন। তাঁর মৃত্যু আমাদের কলেজের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’ এদিকে, কলকাতা থেকে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে দিনহাটার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত তাঁরা বাড়িতে এসে পৌঁছাননি। রাতেই অমিতাভের শেষকৃত্য হবার কথা।

অমিতাভের পৈতৃক বাড়ি নদিয়ার পলাশিতে। তিনি কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করে দিনহাটা কলেজে যোগদান করেন। দীর্ঘ ২৮ বছর দিনহাটা কলেজে পড়াচ্ছেন। দুই বছর ওই কলেজের ভারপ্রাপ্ত  অধ্যক্ষের পদও সামলেছেন। দিনহাটা কলেজের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র ধৃতিমান চৌধুরীর কথায়, ‘ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক যে কতটা মধুর হতে পারে, তা স্যরের থেকেই জানতে পেরেছিলাম। স্যরের একডাকে বিভাগের যে কোনও অনুষ্ঠানে চলে আসতাম।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *