Dinhata | দিনের আলোয় ডোবা ভরাট! নীরব প্রশাসন

Dinhata | দিনের আলোয় ডোবা ভরাট! নীরব প্রশাসন

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


দিনহাটা: গত এক সপ্তাহ ধরে দিনের আলোয় ভরাট করা হচ্ছে ডোবার একটি অংশ। অথচ তা নাকি ঘুণাক্ষরেও জানেন না পঞ্চায়েত প্রধান কিংবা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকরা। এমনই ঘটনা ঘটেছে দিনহাটার পুঁটিমারি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে কলেজপাড়া সংলগ্ন এলাকায়।

অন্যদিকে, গ্রামের বাসিন্দারাও সব দেখেও মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না। তাঁদের কথায়, যাঁরা এসব করছে, তাঁদের মাথার ওপর শাসকদলের কর্তাদের হাত রয়েছে। তাই কিছু প্রতিবাদ করলে তার ফল তাঁদের ভুগতে হবে।
সোমবারও পুঁটিমারি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কলেজপাড়ার সর্বহারা ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, একটি বড় ডোবার একাংশে ট্রলির পর ট্রলি মাটি ফেলা হচ্ছে। গ্রামের বাসিন্দারা দূর থেকে দাঁড়িয়ে সবটাই দেখছেন, কিন্তু প্রাণের ভয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে নারাজ তাঁরা। এলাকার এক ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি জানালেন, এর আগেও ডোবাটি ভরাটের চেষ্টা করা হয়েছিল। গ্রামবাসীরা বাধা দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বৃদ্ধের কথায়, ‘গত কয়েকদিন ধরে দেখছি, ফের জোরকদমে ডোবার একটি অংশ ভরাট করা হচ্ছে।’ ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করে বললেন, ‘ওই ডোবায় একসময় শহরের জল এসে পড়ত। কিন্তু যেভাবে ডোবা বুজিয়ে ফেলা হচ্ছে, তাতে এরপরে শহরের জলে আমাদেরই গ্রাম ভাসবে।’

আক্ষেপের সুর এলাকার এক তরুণের গলাতেও। তাঁর কথায়, ‘আগে এই ডোবায় সবসময়ই জল থাকত। অনেকবার স্নানও করেছি। এখন চোখের সামনে এভাবে নিজেদের পরিচিত ডোবা হারিয়ে যাবে, সেটা মেনে নেওয়া যায় না।’ এ বিষয়ে তাহলে অভিযোগ করেননি কেন? তরুণের উত্তর, ‘যারা এসব করছে, তাদের প্রত্যেকের রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তাই গ্রামের লোক আর এবিষয়ে মাথা ঘামাতে চান না।’

এদিকে, দিনের আলোয় গত সাতদিন ধরে ডোবা ভরাটের কাজ চলছে, অথচ প্রশাসন নাকি কিছুই জানে না। এতেই প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দাদের একাংশ। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। দিনহাটা-১ ব্লকের ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিক কল্যাণ নাথ অবশ্য বললেন, ‘আমাদের কাছে এরকম কোনও অভিযোগ আসেনি। এলে খতিয়ে দেখা হবে।’ পুঁটিমারি-২ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সুরাইয়া বিবি ‘এসব কিছুই জানি না’ বলে দায় সেরেছেন।

অন্যদিকে, সিপিএম নেতা শুভ্রালোক দাস সরাসরি শাসকদলকে এ নিয়ে তোপ দেগেছেন। তাঁর কথায়, ‘এধরনের জমি মাফিয়ারা শাসকদলের সঙ্গে যোগসাজশ করেই এসব কাজ করছে। নাহলে দিনের আলোয় এভাবে ডোবা ভরাটের সাহস পায় কী করে?’

তৃণমূলের শহর ব্লক সভাপতি বিশু ধর প্রশাসনের ঘাড়ে সব দায় চাপিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘এর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর রয়েছে, তারাই বিষয়টি ভালো বলতে পারবে। যদি কেউ এই অন্যায় কাজ করে থাকে, তাহলে এবিষয়ে প্রশাসনের উচিত যথাযথ পদক্ষেপ করা। এখানে দলের কোনও ব্যাপার নেই।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *