Dinhata | গ্রামে নেশাখোর বলেই পরিচিত ফিরদৌস

Dinhata | গ্রামে নেশাখোর বলেই পরিচিত ফিরদৌস

ব্লগ/BLOG
Spread the love


দিনহাটা: গ্রামে বরাবরই নেশাখোর তরুণ বলেই পরিচিত ছিল বছর ২৭-এর ফিরদৌস আলম। তবে কুর্শাহাটের ভবঘুরে খুনে ওই তরুণই যে মূল অভিযুক্ত হবে সেই ধারণা না থাকলেও কিছুটা হলেও অনুমান করেছিলেন এলাকার মানুষজন। কেননা গত কয়েকবছর থেকে তার আচরণগত অসংগতি সে কথাই বলছে। দিনহাটা-২ ব্লকের শুকারুকুঠি গ্রাম পঞ্চায়েতের থরাইখানা মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে উঠা ফিরদৌসের। এলাকাবাসী বলছেন, মা, বাবার মৃত্যুর পর থেকে ফিরদৌস বেপরোয়া হয়ে ওঠে। দিনরাত সবসময় বুঁদ হয়ে থাকত নেশায়। এমনকি উদ্ভট কাণ্ডের জন্য এলাকায় মাঝেমধ্যেই ওর নাম শোনা যেত। তবে বছরখানেক আগে ফিরদৌস একটি চমকে দেওয়া কাণ্ড ঘটিয়েছিল। সেসময় এক বৃদ্ধাকে ছুরি মেরেছিল সে। যদিও সেসময় তা নিয়ে থানায় কোনও অভিযোগ না হওয়ায় পুলিশের খাতায় ফিরদৌসের নামে কোনওরকম অভিযোগ জমা পড়েনি। সেসময় আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলা হয়েছিল। তবে মানুষ খুন করার সুপ্ত বাসনা যে এভাবে পেয়ে বসবে তা কেউই হয়তো ভাবতে পারেননি। আর তাই কুর্শাহাটের ভবঘুরে খুনের ঘটনায় ফিরদৌসকে গ্রেপ্তার করতেই তার গ্রামে শুরু হয়েছে কানাঘুষো। এদিন অভিযুক্ত ফিরদৌসের বাড়ি গিয়ে দেখা গেল টিনের চাল দেওয়া ঘরের দরজায় তালা দেওয়া। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতেই জানা গেল ফিরদৌসের মা ও বাবা দুজনেই মারা গিয়েছেন অনেকদিন আগে। সে নাকি বিয়েও করেছিল। তবে বৌ থাকেনি। স্থানীয়দের কথায়,  ফিরদৌস গাঁজা থেকে শুরু করে সিডেটিভ ড্রাগের নেশা করত।

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সেকেন্দার আলি বলেন, ‘একবছর থেকে ফিরদৌস নেশামুক্তি কেন্দ্রেই ছিল। এই গত নভেম্বর মাসে সেখান থেকে ছাড়া পায়। বাজারে অন্যদের কাছে শুনেছি ও মাঝেমধ্যেই ছুরি নিয়ে ঘুরত। নানা পশুপাখির কাঁচা মাংসও নাকি খেয়েছে এবং খুনের পর সে বাঁচতে ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রেই আশ্রয় নিয়েছিল বলে জানতে পারছি। তবে ওই তরুণ এর আগে এক বৃদ্ধাকে ছুরিকাঘাত করেছিল। সেসময় আলোচনার মাধ্যমে সেটি মিটিয়ে দেওয়া হয়।’ পুলিশ জানিয়েছে, ফিরদৌসের নামে পুলিশের খাতায় কোনওরকম অভিযোগ নেই।

তবে থরাইখানা নিজের গ্রামেই ফিরদৌস এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। একজন তরুণ নেশার খপ্পরে পড়ে যে মানুষখেকো হয়ে যাবে তা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছেন না বাসিন্দারা। গ্রামের এক বাসিন্দার কথায়, ‘সারাদিন নেশার মধ্যেই থাকত সে, খুব কম কথা বলত। তবে শুনেছিলাম ছাগল, মুরগি মেরে নাকি কাঁচা মাংস খেত। তবে সে যে মানুষ মেরে তার মাংস খাবে সেটা কল্পনাতেও ভাবতে পারছি না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *