Dinahata | সিতাই ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উন্নত পরিষেবার দাবি, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ২৫ কিমি যাত্রা, বিপদের আশঙ্কা

Dinahata | সিতাই ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উন্নত পরিষেবার দাবি, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ২৫ কিমি যাত্রা, বিপদের আশঙ্কা

শিক্ষা
Spread the love


দিনহাটা: শহর থেকে দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। এলাকায় একটি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু সেখানে প্রাথমিক কিছু পরিষেবা ছাড়া আর কিছুই মেলে না। এমন পরিস্থিতি সিতাই ব্লকের। এই অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অন্তঃসত্ত্বারা। উপযুক্ত স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাবে তাঁদের শারীরিক অবস্থার ওপর প্রভাব পড়ছে। তাই সিতাই ব্লকে উন্নতমানের স্বাস্থ্য পরিষেবার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সিতাই ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নর্মাল ডেলিভারির ব্যবস্থা থাকলেও সিজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা এখানে মেলে না। ফলে অনেকক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার শেষমুহূর্তে যদি জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয় তখন সেই অন্তঃসত্ত্বাদের নিয়ে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে ছুটতে হয়। সিতাই ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে যার দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। সেখানে পৌঁছাতে যেমন সময় লাগে তেমনি অন্তঃসত্ত্বাদের প্রাণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। অধিকাংশ সময় এই দীর্ঘপথ যাওয়ার সময় তাঁরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমনকি এর প্রভাব নবজাতকের স্বাস্থ্যের ওপরেও পড়ে।

সিতাই ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ৩০টি শয্যা থাকলেও চিকিত্সক রয়েছেন মাত্র তিনজন। কোচবিহার জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিক রঞ্জিত মণ্ডল এই পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘সিতাইয়ের ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উন্নতমানের চিকিত্সা পরিষেবা দেওয়ার এবং সেখানে আরও চিকিৎসক নিয়োগের জন্য ওপরমহলে আবেদন জানানো হয়েছে।’

বিষয়টি নিয়ে এলাকার বিধায়ক সংগীতা রায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সিতাইয়ের স্বাস্থ্য পরিষেবার মান উন্নত করার জন্য ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য দপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উন্নত পরিষেবা মিলবে।’

গত ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে মোট ১০ জন অন্তঃসত্ত্বাকে প্রসবের জন্য সিতাই থেকে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই মহিলাদের মধ্যে বিলকিস খাতুন, কল্যাণী বর্মন ও শুক্লা মণ্ডলের মতো একাধিকজন রয়েছেন, যাঁরা এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে যাওয়ার সময় শারীরিকভাবে আরও দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।

এই পরিস্থিতিতে অন্তঃসত্ত্বাদের পরিবারের মধ্যে দিন-দিন উদ্বেগ বাড়ছে। সিতাইয়ের বাসিন্দা অনিমেষ বর্মন বলেন, ‘২৫ কিলোমিটার পথ পার করে একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলার পক্ষে হাসপাতালে যাওয়া খুব কঠিন। সিতাইয়ের ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিষেবার মান আরও উন্নত হলে আমাদের মতো পরিবারগুলির খুব উপকার হবে।’ আরেক বাসিন্দা নুর মহম্মদ অভিযোগের সুরে জানান, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সবরকমের পরিষেবা পাওয়া যায় না। বেশিরভাগ সময় তাঁরা রোগীকে নিয়ে দিনহাটা বা কোচবিহারে চলে যান।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *