উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পরনে গেরুয়া পাঞ্জাবি-সাদা কালো চেক জহর কোট। চেনা মেজাজে দীর্ঘদিন পর দলের কোনও মিটিং-এ যোগ দিলেন দিলীপ ঘোষ (BJP Dilip Ghosh)। খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (Amit Shah) সঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠকের পাশাপাশি সারলেন মধ্যাহ্নভোজও। রাজকীয় এই ভোজের আসরে দেখা মিলল শমীক-সুকান্ত-শুভেন্দুর। তবে সকলের মধ্যে থেকে লাইমলাইট কাড়লেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি। তাই বৈঠক সেরে বেরোতেই কী কথা হল তা শোনার জন্য যখন মুখিয়ে সংবাদমাধ্যম, ঠিক তখনই তাঁর সংক্ষিপ্ত জবাব ‘যা বলার দল বলবে।’
দিলীপ ঘোষ, এখনও পর্যন্ত বঙ্গ বিজেপির সফলতম রাজ্য সভাপতি। সংগঠন মজুবত করে কীভাবে চোখে চোখ রেখে ভোটের ময়দানে জয় ছিনিয়ে নিতে হয় তা তিনি দেখিয়েছিলেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে বাংলায় ১৮ জন সাংসদ পেয়েছিল গেরুয়া শিবির (BJP)। এখানেই থেমে নেই দিলীপের অবদান। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচন। তখনও রাজ্য বিজেপি সভাপতি পদে আসীন দিলীপ ঘোষ। নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর দেখা গেল ৭৭ আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি প্রার্থী। এরপর দিন যত এগিয়েছে ততই দলের অন্দরে কোণঠাসা হয়েছেন তিনি। বিশেষ করে চলতি বছর আচমকা তাঁর বিয়ের সিদ্ধান্ত, স্ত্রীকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (CM Mamata Banerjee) আহ্বানে দিঘার জগন্নাথ মন্দির দর্শন সবটা নিয়ে দলের একাধিক অনুষ্ঠান থেকে ব্রাত্য হন দিলীপ। এমনকি চলতি বছর মোদি ও শা কলকাতা সফরে এসেছেন, সভা করেছেন কিন্তু সেখানে ডাক পাননি তিনি। তা নিয়ে অভিমানও উগরে দিয়েছেন। এদিকে অনেকেই বলেছেন, দিলীপ-সহ পুরনো মুখ ফিরলেই বিজেপি আবারও পায়ের নিচের মাটি শক্ত করতে পারবেন। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, হারানো জমি ফিরে পেতে দিলীপকে প্রয়োজন, তা অনুভব করেছেন দলের বাকি সদস্যরাও। সেই কারণেই দিলীপকে ডেকেছেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, বুধবার সকালে কলকাতার এক অভিজাত হোটেলে দলের সাংসদ, বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন অমিত শা। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সহ দিলীপ ঘোষ। দীর্ঘক্ষণ বৈঠকের পর সকলে মিলে মধ্যাহ্নভোজও সারেন। বৈঠক শেষ হতেই বাইরে বেরিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘আমায় ডেকেছিল তাই এসেছি। বাকি যা বলার দল বলবে।’
