Cooch Behar | পরিকল্পনাহীনতায় ভোগান্তিই সম্বল

Cooch Behar | পরিকল্পনাহীনতায় ভোগান্তিই সম্বল

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


কোচবিহার: পরিকল্পনাহীন নিকাশি ব্যবস্থার জন্যই কোচবিহার শহর বারবার জলমগ্ন হচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। হেরিটেজ শহর নিয়ে পরিকল্পনার শেষ নেই, শহর সাজানোর নামে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। তারপরও একটু বৃষ্টি হলেই রাজার শহর জলে ভাসে। ভারী বৃষ্টিপাত হলে তো কথাই নেই, বাড়িঘরে পর্যন্ত জল ঢুকে যায়।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শহরজুড়ে উচ্চতার সমীক্ষা করে নির্দিষ্ট গভীরতা মেপে নর্দমা তৈরি করা প্রয়োজন। বর্তমানে সেই মাপগুলি সঠিকভাবে নেই জন্যই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের। পুরসভার তরফে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করা হচ্ছে ‘মাস্টার প্ল্যান’ তৈরি করে শহরের নিকাশিনালার সমস্যা মেটানো হবে। কিন্তু তা কবে হবে? উত্তর নেই কারও কাছে। বছরের পর বছর ধরে শহর জলে ভাসলেও পুরসভার তরফে সমস্যা মেটাতে সদর্থক ভূমিকা নিতে না পারা নিয়ে তাঁদের সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন নাগরিকরা। তবে পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষের সাফাই, ‘ভারী বৃষ্টিপাতের জন্য সব জায়গাতেই জল জমেছে। নিকাশি ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত কাজ করা হয়।’

কোচবিহার শহরে যে সমস্যাগুলি সবচেয়ে বেশি তার মধ্যে অন্যতম নিকাশি ব্যবস্থার সমস্যা। অল্প বৃষ্টিতেই নালা উপচে রাস্তায় জল চলে আসে। মাঝেমধ্যে পুরসভার তরফে নর্দমা সাফাই করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শহর জলমগ্ন হওয়া থেকে আটকাতে একমাত্র উপায় সঠিক পরিকল্পনা করে নর্দমা তৈরি। কোচবিহারের বাসিন্দা তথা প্রবীণ ইঞ্জিনিয়ার মানবকুমার বসুর বক্তব্য, ‘শহরের নর্দমাগুলির গভীরতা ও ঢাল সঠিকভাবে নেই জন্যই জল জমে যায় ও দ্রুত জল বের হতে পারে না। প্রথমেই উচিত শহরজুড়ে রিডিউস লেভেল অর্থাৎ নর্দমার উচ্চতার পরিসংখ্যান নিয়ে একটি ম্যাপ তৈরি করা। সেই অনুযায়ী যদি নর্দমা তৈরি করা যায় তাহলে সমস্যা মিটবে।’

একই সুরে প্রবীণ ইঞ্জিনিয়ার তথা জেলা পরিষদের প্রাক্তন এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সজল পাল বললেন, ‘কোচবিহারে রাজ আমলের যে নর্দমাগুলি রয়েছে আমরা সেগুলি অনুকরণ করে যদি নর্দমা তৈরি করি তাহলেই সব সমস্যা মিটে যাবে। শুধু ছোট ছোট প্রচুর ড্রেন বানালেই হবে না। সেগুলি থেকে যাতে বড় নর্দমায় জল পৌঁছাতে পারে ও পরবর্তীতে নদীতে যাতে জল ঠিকমতো যেতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ম্যাপ তৈরি করে কাজ করতে হবে।’

কোচবিহার শহরে রাজ আমলের নর্দমার মাঝে উচ্চতার মাপ বোঝার জন্য কংক্রিটের চিহ্ন বসানো রয়েছে। ইতিহাসবিদরা জানান, সেই সময় নর্দমা পরিষ্কার করার সময় সেই চিহ্ন দেখে কাদামাটি ও আবর্জনা তুলে ফেলা হত। ফলে নর্দমা দিয়ে জল যেতে কখনোই সমস্যা হত না। কিন্তু এখন অধিকাংশ ছোট-বড় নর্দমাই অপরিকল্পিত অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ। শহরের বাসিন্দা মৃত্যুঞ্জয় সরকারের বক্তব্য, ‘ভারী বৃষ্টি হলে শহর জলমগ্ন হবে সেটা মানা যায়। কিন্তু আমাদের এখানে অল্প বৃষ্টিতেই সবসময় যেভাবে জলে ভাসতে হয় তা দুর্ভাগ্যের। তুফানগঞ্জ, দিনহাটা, মাথাভাঙ্গাতেও এই পরিমাণ সমস্যা নেই যা কোচবিহার শহরে রয়েছে।’
পুরসভার বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপির বিধায়ক নিখিলরঞ্জন দে বলেছেন, ‘কোচবিহারে ড্রেনেজ ব্যবস্থা কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। প্রশাসন বলে তো কিছুই নেই। বর্তমান সরকার মেলা, খেলা, কার্নিভাল নিয়ে ব্যস্ত। হেরিটেজের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। অথচ তার হিসেব নেই।’ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত নর্দমা তো বটেই, সেইসঙ্গে নর্দমায় আবর্জনা ফেলার ফলেও উচ্চতার হেরফের হওয়ায় জল জমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই সমস্যা মেটাতে পুরসভার পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে।

The publish Cooch Behar | পরিকল্পনাহীনতায় ভোগান্তিই সম্বল appeared first on Uttarbanga Sambad.



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *