উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: শরীর খারাপ লাগলে আমরা অনেক সময়ই তা কাজের চাপ বা আবহাওয়ার উপর দোষ চাপিয়ে এড়িয়ে যাই। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, ক্লান্তি বা সামান্য ঝিঁঝি ধরাও হতে পারে শরীরে লুকিয়ে থাকা বড় কোনও পুষ্টির ঘাটতির সংকেত (Dietary Deficiency)। জেনে নিন কোন লক্ষণ কোন খনিজ বা ভিটামিনের অভাবকে নির্দেশ করে।
লাগাতার ক্লান্তি ও পেশির দুর্বলতা
ক্লান্ত লাগলে আমরা চা-কফিতে চুমুক দিই, কিন্তু এর নেপথ্যে থাকতে পারে আয়রন, প্রোটিন বা ভিটামিনের ঘাটতি। প্রোটিনের অভাবে পেশি শক্তি হারায়, আর আয়রনের অভাবে রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, যা শরীরকে নিস্তেজ করে দেয়।
খাওয়ার পরেও খিদে পাওয়া
পেট ভরে খাওয়ার পরেও কি বারবার খিদে পাচ্ছে? এটি শরীরের ফাইবার বা প্রোটিনের অভাবের লক্ষণ হতে পারে। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার কম খেলে তৃপ্তি আসে না, যা রক্তে শর্করার মাত্রার হেরফের ঘটিয়ে অকাল খিদে তৈরি করে।
ঘনঘন সর্দি-কাশি ও ত্বকের শুষ্কতা
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়া ভিটামিন সি-এর অভাবের সংকেত। এর ফলে ত্বক খসখসে হয়ে যায় এবং শরীর সহজেই সংক্রমণের শিকার হয়।
হাত-পা অসাড় হওয়া বা ঝিঁঝি ধরা
হঠাৎ হাত বা পায়ের আঙুল অবশ হয়ে যাওয়া কেবল স্নায়ুর সমস্যা নয়, এটি ক্যালসিয়ামের অভাবের বড় ইঙ্গিত। হাড়ের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি স্নায়বিক সচলতা বজায় রাখতে এই খনিজ অপরিহার্য।
রুচিহীনতা ও ক্ষত না সারা
খাবারে অনীহা এবং শরীরের কোনো ক্ষত সারতে দেরি হওয়া জিঙ্কের ঘাটতির লক্ষণ। জিঙ্ক আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং কোষ পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সুস্থ থাকতে কেবল পেট ভরানো নয়, পাতে প্রোটিন, ফাইবার ও ভিটামিনের ভারসাম্য রাখা জরুরি। প্রতিদিনের ডায়েটে মরশুমি ফল ও শাকসবজি রাখলে এই ঘাটতিগুলো সহজেই দূর করা সম্ভব। শরীর কোনও সংকেত দিলে তা এড়িয়ে না গিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
