জলপাইগুড়ি: পরকীয়া সম্পর্কের জেরে স্ত্রীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় (Dhupguri Homicide) দৃষ্টান্তমূলক রায় দিল জলপাইগুড়ি জেলা আদালত। মাত্র আট মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে অভিযুক্ত স্বামী শ্রীকান্ত রায়কে ফাঁসির সাজা শোনালেন বিচারক। এই রায়দানকে ঘিরে তীব্র কৌতূহল ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে।
ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের ২৪শে জানুয়ারি, জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) জেলার ধূপগুড়ি পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের রায়পাড়ায়। পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত স্বামী শ্রীকান্ত রায় ভিনরাজ্যে কাজ করতেন। সেই সুযোগেই তাঁর স্ত্রী সোমা রায় স্থানীয় এক যুবক চিরঞ্জিত রায়ের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। স্বামী বাড়ি ফিরে বিষয়টি জানতে পারলে দম্পতির মধ্যে চরম অশান্তি শুরু হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশি সভাও বসে এবং স্ত্রীর অনড় মনোভাবের কারণে স্বামী নিজেই তাঁকে প্রেমিকের হাতে তুলে দেন। এরপর থেকেই চিরঞ্জিতের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন সোমা।
কিন্তু জিঘাংসা মেটেনি! ঘটনার দিন ভোরে আচমকাই ধারালো অস্ত্র নিয়ে চিরঞ্জিতের বাড়িতে চড়াও হন শ্রীকান্ত। ঘরের ভেতর ঢুকে সোমাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুন করেন তিনি। এমনকি বাধা দিতে গেলে চিরঞ্জিতের মাকেও আক্রমণ করে গুরুতর জখম করেন অভিযুক্ত। ঘটনার পরই রক্তমাখা অস্ত্র হাতে সোজা ধূপগুড়ি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন শ্রীকান্ত।
পুলিশ দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট পেশ করে। এই মামলায় মোট ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি জেলা আদালতের অ্যাডিশনাল সেসন জাজ থার্ড কোর্টের বিচারক বিপ্লব রায় এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায়দান করেন। স্ত্রীকে খুনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে শ্রীকান্ত রায়কে ফাঁসির সাজা (Demise Sentence) শোনান তিনি। পাশাপাশি, চিরঞ্জিতের মাকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের এই রায়ে বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী পর্যবেক্ষণও উঠে এসেছে। দোষী ব্যক্তির দুই নাবালক সন্তানের ২১ বছর বয়স পর্যন্ত ভরণপোষণের সমস্ত দায়িত্ব জেলাশাসককে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি, সমাজে সালিশি সভার মতো অপসংস্কৃতি ও সামাজিক ব্যাধিগুলির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

