শুভাশিস বসাক, ধূপগুড়ি: একদিকে বাজারের মন্দা ভাব, অন্যদিকে গবাদিপশুর অবাধ বিচরণ। এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। ধূপগুড়ির (Dhupguri) মতো গুরুত্বপূর্ণ রেগুলেটেড মার্কেট চত্বরে এখন গবাদিপশুর দাপট এতটাই বেড়েছে যে, চোখের পলক ফেললেই কৃষকদের কষ্টার্জিত ফসলে মুখ দিচ্ছে তারা। এতে লাভের মুখ দেখার বদলে আর্থিক ক্ষতির বোঝা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে গ্রামাঞ্চল থেকে আসা শত শত চাষিকে। কিন্তু এই দায় কার? তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
অভিযোগ উঠেছে, গবাদিপশুর মালিকরা বাড়িতে লালনপালন করলেও খাবারের খরচ বাঁচাতে পরিকল্পিতভাবে পশুগুলোকে মার্কেট চত্বরে ছেড়ে দেন। সারাদিন খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ানো এই পশুগুলো সুযোগ পেলেই দোকানে সাজানো সবজি ও শাকে মুখ দিচ্ছে। কৃষকদের দাবি, গবাদিপশু তাড়াতে এখন প্রত্যেক দোকানদারকে লাঠি এবং জল হাতে সবসময় পাহারায় থাকতে হচ্ছে। তাঁদের অনেকে গবাদিপশুগুলিকে জল ছিটিয়ে, আবার কেউ লাঠি দেখিয়ে ফসল বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।
রেগুলেটেড মার্কেট চত্বরের হাটে আসা কৃষক সুভাষ দত্ত আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘ভালো দামের আশায় গ্রাম থেকে এখানে সবজি নিয়ে আসি। কিন্তু সেখানে অবাধে গবাদিপশুর বিচরণ। একটু নজর সরালেই গবাদিপশু সবজিতে মুখ দিচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে আমাদের। যারা গবাদিপশু পালন করছেন, তাঁরা বাড়িতে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করতে পারেন।’ অপর এক কৃষক পূর্ণ রায় জানান, অনেক সময় গ্রাম থেকে ধূপগুড়ি হাটে সবজি নিয়ে যাওয়া হলেও ঠিকঠাক দাম পাওয়া যায় না। তার ওপর এভাবে সবজি নষ্ট হওয়া মানে কৃষকদের পেটে লাথি মারা।
যদিও ওই রেগুলেটেড মার্কেট চত্বরেই বর্তমানে মহকুমা শাসকের দপ্তর অবস্থিত। সেখানেও গবাদিপশুর অবাধ বিচরণ থাকলেও প্রশাসন এবিষয়ে নীরব। শুধু তাই নয়, জাতীয় সড়কেও এই পশুদের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।
বিষয়টি নিয়ে রেগুলেটেড মার্কেট কমিটির কর্মকর্তাদের প্রশ্ন করা হলে তাঁরা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। এই বিষয়ে মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন না ধরায় তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অবিলম্বে এই গবাদিপশুগুলোকে ধরে খোঁয়াড়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। মালিকদের ওপর কড়া জরিমানা ধার্য না করলে কৃষকদের এই দুর্ভোগ এবং জাতীয় সড়কের দুর্ঘটনা কোনওভাবেই বন্ধ হবে না।
