Delhi Blast | তুরস্ক-যোগ, তদন্তে সাংকেতিক চিহ্ন

Delhi Blast | তুরস্ক-যোগ, তদন্তে সাংকেতিক চিহ্ন

ব্লগ/BLOG
Spread the love


নবনীতা মণ্ডল, নয়াদিল্লি: গাড়ি, গাড়ি আর গাড়ি। এখন আর দুটি নয়, নয়াদিল্লিতে বিস্ফোরণের (Delhi Blast) ঘটনায় ৩২টি গাড়ির তত্ত্ব সামনে আসছে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, জঙ্গিদের পরিকল্পনায় ছিল একসঙ্গে ৩২টি গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটানো। কিছু নোটবুক ও ডায়েরিতে সেই পরিকল্পনা সংকেতে লেখা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে তল্লাশির সময় বৃহস্পতিবার ওই নোটবুক ও ডায়েরি উদ্ধার হয়েছে।

দুটি ডায়েরির পাতাজুড়ে রয়েছে অসংখ্য সাংকেতিক শব্দ ও চিহ্ন, যা প্রথম নজরে এলোমেলো লাগলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এগুলি আসলে ‘এনক্রিপ্টেড মেসেজ’। ডায়েরির প্রতিটি পাতায় আলাদা আলাদা চিহ্ন ও শব্দগুচ্ছের পাশে সময় ও তারিখ লেখা দেখে অনুমান করা হচ্ছে, ওগুলো হামলার পরিকল্পনা বা যোগাযোগের কোনও প্যাটার্ন সংরক্ষণের কৌশল হতে পারে।

৩২টি গাড়িতে হামলার তত্ত্ব জোরালো হয়েছে পুরোনো গাড়ি সংগ্রহ করে গোপনে বিস্ফোরক বসানোর কাজ চলার খবরে। বিভিন্ন শহরে দুজন সেই কাজ করছিল। উমর সেই কাজের তত্ত্বাবধানে ছিল বলে তদন্তে উঠে আসছে। ইতিমধ্যে বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত গাড়ির ভিতর পাওয়া পুড়ে যাওয়া একটি পায়ের ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে যে, সেটি উমরেরই।

অন্যদিকে, বিস্ফোরণে জড়িত হোয়াইট কলার টেরর নেটওয়ার্কের সুতো মিলেছে দেশের বাইরে। ‘উকাসা’ নামে তুরস্কভিত্তিক একটি হ্যান্ডলার থেকে অভিযুক্তদের কাছে নির্দেশ আসত বলে জানা গিয়েছে। এই কাজ হত বিশেষভাবে তৈরি একটি এনক্রিপ্টেড অ্যাপে। গোয়েন্দারা ‘উকাসা’র সঙ্গে পাকিস্তানের জইশ-ই-মহম্মদ এবং আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দ’এর যোগসূত্র আছে কি না খতিয়ে দেখছেন।

তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২২ সালে উমর সহ চার চিকিৎসক তুরস্কে গিয়ে ওই হ্যান্ডলারের সঙ্গে দেখা করে। সেখানেই তৈরি হয় বিভিন্ন হামলার ছক। যার মধ্যে দিল্লি, গুরুগ্রাম ছাড়াও অযোধ্যা ছিল অন্যতম লক্ষ্য। ষড়যন্ত্রীরা নিজেদের মধ্যে নিরাপদ যোগাযোগের জন্য ওই অ্যাপে একটি প্রাইভেট গ্রুপ গঠন করেছিল এবং সেখানে নির্দেশনামূলক কথাবার্তা ও সময়সূচি ভাগাভাগি করা হত। এমন চ্যাট-রেকর্ড তো বটেই, আর্থিক লেনদেনের খোঁজ মিলেছে তদন্তে। ফলে দিল্লিতে বিস্ফোরণে বিদেশের হস্তক্ষেপ ও তহবিল সরবরাহের সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে।

রুপোলি রঙের আই-২০ গাড়িতে বিস্ফোরণের পর উমরের মালিকানার একটি লাল ইকোস্পোর্ট গাড়ি নজরে এসেছিল তদন্তে। বৃহস্পতিবার আবার সিলভার রঙের একটি ব্রিজা এসইউভি নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বিস্ফোরকের খোঁজে বম্ব স্কোয়াড বৃহস্পতিবার তল্লাশি চালানোর সময় গাড়িটি উদ্ধার হয়। গাড়িটির মালিক ইতিমধ্যে ধৃত চিকিৎসক শাহিনা সইদের বলে মনে করা হচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীর এবং ফরিদাবাদের পুলিশ মনে করছে, এই গাড়িটিও বিস্ফোরণের চক্রান্তের সঙ্গে যুক্ত।

আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল কমপ্লেক্সেও বৃহস্পতিবার তল্লাশি চলে। অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক উমর উন নবি ও মুজাম্মিলের ঘর থেকে উদ্ধার হয় একটি নোটবুক ও দুটি ডায়েরি। যাতে সাংকেতিক কোড পাওয়া গিয়েছে। সেই তদন্তেই উমরের সঙ্গে যুক্ত আরও তিন চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল, আদিল রাঠের এবং শাহিনা সইদ মিলে ২৬ লক্ষ টাকারও বেশি অর্থ জোগাড়ের তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। এই টাকা বোমা তৈরির সরঞ্জাম কেনার জন্য জোগাড় করা হয়। তদন্তকারীরা জেনেছেন, গুরুগ্রাম ও নুহ থেকে কেনা হয়েছিল ২৬ কুইন্টাল এনপিকে সার, যা ব্যবহার করা হয় আইইডি তৈরি করতে। হামলা চালানোর জন্য আটজনকে দায়িত্ব দেওয়ার কথাও উঠে এসেছে। ওই আটজনকে চার দলে ভাগ করে আলাদা শহরে আইইডি বসিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা এদিনও বলেছেন, ‘দোষীদের একজনকেও ছাড়া হবে না।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘দোষীদের বিচার করা হবে।’ যদিও কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরার প্রশ্ন, ‘দিল্লির বুকে কীভাবে ২৯০০ কেজি বিস্ফোরক চলে এল? কোথায় ব্যর্থতা ছিল? এই ব্যর্থতার দায় কার? কে জবাবদিহি করবেন?’ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার দাবি তুলেছে কংগ্রেস। অমিত শা এদিনও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন, আইবি ডিরেক্টর তপন ডেকার সঙ্গে বৈঠকে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *