কলকাতা: উত্তর দিনাজপুরের দাড়িভিট হাইস্কুলে গুলিচালনা ও ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় সিঙ্গল বেঞ্চের দেওয়া এনআইএ (NIA) তদন্তের নির্দেশকেই বহাল রাখল উচ্চ আদালত। এই নির্দেশের বিরোধিতা করে ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছিল রাজ্য, কিন্তু দীর্ঘ শুনানির পর মঙ্গলবার সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ এ দিন স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, এনআইএ ইতিমধ্যেই এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং আদালত তাতে কোনওভাবেই হস্তক্ষেপ করবে না। ফলে দাড়িভিট কাণ্ডে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তের পথ আরও প্রশস্ত হলো।
প্রেক্ষাপট কী ছিল?
২০২৩ সালের মে মাসে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার সিঙ্গল বেঞ্চ দাড়িভিট কাণ্ডে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। নিহতদের পরিবার সিবিআই তদন্তের দাবি জানালেও, ঘটনার গুরুত্ব এবং পারিপার্শ্বিক তথ্য খতিয়ে দেখে আদালত মনে করেছিল যে এই ঘটনার তদন্তের জন্য এনআইএ বা জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাই উপযুক্ত। সিঙ্গল বেঞ্চের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার। তবে ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের আবেদনে কোনও অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয়নি এবং শেষ পর্যন্ত রাজ্যের আর্জি খারিজ করে দিল।
ঘটনার ইতিবৃত্ত
২০১৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের দাড়িভিট হাইস্কুলে শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বাংলা শিক্ষকের বদলে উর্দু শিক্ষক নিয়োগের প্রতিবাদে ছাত্র এবং স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখালে পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বাধে। এই সংঘর্ষের সময়ই গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান স্কুলের দুই প্রাক্তন ছাত্র—রাজেশ সরকার ও তাপস বর্মণ।
নিহতদের পরিবারের এবং বিজেপির অভিযোগ ছিল, পুলিশের গুলিতেই ওই দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। যদিও পুলিশ প্রশাসন আগাগোড়াই গুলি চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর হাইকোর্টের এই রায় নিহতদের পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন রাজ্য সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় কি না, সেটাই দেখার বিষয়।
