অনুপ মণ্ডল, বুনিয়াদপুর: কালীপুজোকে কেন্দ্র করে সোমবার দক্ষিণ দিনাজপুর (Dakshin Dinajpur) জেলার বংশীহারী সহ বুনিয়াদপুর (Buniadpur) পুর এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে জনতার ঢল নামে। সব মিলে এই এলাকায় ২০০–রও বেশি কালীপুজো হয়েছে।
বংশীহারী এলাহাবাদ পঞ্চায়েতের বিবিহারে শতাব্দীপ্রাচীন কালীপুজোকে (Kali Puja) কেন্দ্র করে জনতার উৎসাহ তুঙ্গে। মন্দিরের দুই কিলোমিটার দূরে ধূমপাড়া গ্রামের সিংহ পরিবার এই পুজো পাঁচ পুরুষ ধরে করে আসছে। মন্দিরের পাশেই বিবিহার গ্রাম রয়েছে। সেই গ্রামের অধিকাংশ পরিবার মুসলমান সম্প্রদায়ভুক্ত। ধূমপাড়ার সিংহ পরিবার এই পুজো করলেও বিবিহারের মুসলমান সম্প্রদায়ভুক্ত মহিলাদের অনেকেই পুজোর দিন বিকেলে এই পুজোয় ভোগের ডালাতে বাতাসা নিয়ে পুজো দিতে আসেন। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুজোর দিন দুপুর থেকে ভক্তদের সমাগম হয়। মানতের পাঁঠা, পায়রা হাতে অনেককেই মন্দিরের পাশে আটচালায় অপেক্ষা করতে দেখা গিয়েছে। মন্দিরের বাঁ পাশে ভোগ রাখার ঘরের সামনে লম্বা লাইন।
বিবিহার গ্রামের ইসমত আরা খাতুন বললেন, ‘ছোটবেলা থেকেই এই পুজোয় ভোগ দিতে আসি। মালদা জেলায় বিয়ে হলেও মাঝে কয়েক বছর আসা হয়নি। গত তিন বছর থেকে পুজোর দুইদিন আগেই বিবিহারে চলে আসি। প্রতি বছর এই দিনটির অপেক্ষায় থাকি। এবারও এসেছি। মায়ের কাছে মানত করে ফল পাওয়ায় আজকে বাতাসা ভোগ দিয়ে গেলাম। অনেক আপদবিপদ থেকে মা আমাদের রক্ষা করেন।’
বেলা গড়ানোর পাশাপাশি দিঘিবংশীহারীতে শতাব্দীপ্রাচীন রক্ষাকালীর পুজোয় উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গিয়েছে। খোলা আকাশে বেদিতে সন্ধ্যার মধ্যে দেবীর পুজো শেষ হয়ে যায়। এলাকার শতাধিক মহিলা এই পুজোয় অংশ নেন। দুপুর থেকে বেদিতে দুধ-জল দেওয়া শুরু হয়েছে। পাশের গ্রাম থেকে শতাধিক মহিলা দুধ-জল, ভোগের ডালা নিয়ে উপস্থিত হন। আমিনপুর কাছারির জমিদারবাড়ির প্রতিনিধিরা ঢাক ও ঘট নিয়ে আসার পর দেবীর পুজো শুরু হয়। দিঘিবংশীহারীর দিঘি থেকে ঘটে জল ভরে বেদির সামনে রেখে পুজোর সূচনা হয়। বেদিতে পুজো শেষে পাঁঠা ও পায়রা বলি হয়েছে। সন্ধ্যার মধ্যে এখানে পুজো শেষ হয়। এখনকার পুজো শেষে ঘট ও ফুল চলে যায় আমিনপুর কাছারিবাড়ির কালীপুজোয়। আর ওই ঘটে সেখানকার রক্ষাকালীপুজো শুরু হয়। দিঘিবংশীহারীর রক্ষাকালী বড় বোন হওয়ায় তাঁর পুজো সবার আগে হয়।
এছাড়াও বংশীহারী ও বুনিয়াদপুরে বিগ বাজেট পুজোগুলির মধ্যে দৌলতপুর বিদ্রোহী ক্লাব, বুনিয়াদপুর তরুণ সংঘ, নতুন আলোক, যুবশ্রী, যুব শক্তি, বিপ্লবী, অমর সংঘের পুজোয় সন্ধ্যা থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়।
