উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ দুর্গাপুজোর সময়ে নৈহাটি ও বনগাঁয় সিপিএমের অস্থায়ী বইয়ের স্টল তৈরিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে (CPM Guide Stall)। কেন পুজোর দিনগুলিতে বামেদের বইয়ের স্টল দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে সরাসরি রাজ্য সরকারের কাছে স্পষ্ট অবস্থান জানতে চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আদালত রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে, বুধবারই এই বিষয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য জানাতে হবে।
মামলাকারীদের আইনজীবী শামীম আহমেদ আদালতে জানান যে, বিগত আড়াই দশক ধরে নিয়মমাফিক পুজোর দিনগুলিতে ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলে সিপিএমের পক্ষ থেকে বইয়ের স্টল বা ছোট বইমেলা পরিচালনা করা হয়ে থাকে। অতীতে এর জন্য আলাদা করে কোনো অনুমতির প্রয়োজন হতো না। কিন্তু চলতি বছর রাজ্য প্রশাসন বা পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে অনুমতির বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছে।
এর পরে বামেরা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করতে গেলে একটি নির্দিষ্ট হিন্দু সংগঠনের পক্ষ থেকে তাতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এমনকি সেই সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল বলেও আদালতে দাবি করা হয়।
উভয়পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য রাজ্যের কৌঁসুলির উদ্দেশে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “ওরা তো বই বিক্রি করতে চাইছে, খাবার নয়! এ ব্যাপারে আপনাদের (রাজ্যের) নির্দিষ্ট বক্তব্য কী?”
এর আগে সোমবার আদালতের তরফ থেকে পর্যবেক্ষণ রাখা হয়েছিল যে, দুর্গাপুজোর সময়ে অনুমতি না মিললে পরবর্তী সময়ে কালীপুজোর সময়ে ওই স্টলগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সেই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে মামলাকারীদের আইনজীবী তৎক্ষণাৎ মামলাটি থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি বা ‘রিলিজ’-এর আবেদন জানান। পরবর্তীতে মঙ্গলবার নতুন করে সওয়াল শোনার পর বিচারপতি মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেছেন।

