মাথাভাঙ্গা: রাজনীতির ময়দানে কাটমানির অভিযোগ তৃণমূল আমলে নিত্যদিনের ঘটনা হলেও, সেই টাকা প্রকাশ্যে ফেরত দেওয়ার ঘটনা সাধারণত সংবাদ শিরোনামে দেখা যায় না। তবে রবিবার মাথাভাঙ্গা (Mathabhanga) শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুভাষপল্লী দুর্গা মন্দিরের মাঠ এমনই এক বিরল ও ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী থাকল (Cooch Behar Information)।
‘হাউস ফর অল’ প্রকল্পে ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রাক্তন কাউন্সিলর মুকুল চন্দ্র সাহা ওরফে রাম সাহার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। রবিবার সেই মাঠেই একে একে ডেকে ১৪ জন উপভোক্তাকে মোট ২ লক্ষ ১ হাজার টাকা নগদ ফেরত দেওয়া হয়। টাকা ফেরত পেয়ে ক্ষোভের মাঝেও স্বস্তির হাসি ফোটে স্থানীয়দের মুখে।
ঘটনাটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল টাকা হাতে পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া। বহুদিনের খোয়া যাওয়া অর্থ ফিরে পেয়ে অনেকেই তা নিজেদের কাছে না রেখে মন্দিরের উন্নয়ন তহবিলে দান করেন। ঘর পাওয়ার জন্য একদা ৪০ হাজার টাকা দিতে হয়েছিল তপন সাহাকে। রবিবার তার অর্ধেক, অর্থাৎ ২০ হাজার টাকা ফেরত পেলেন তিনি। সেখান থেকে ৫ হাজার টাকা মন্দিরে দান করেন। সহদেব সাহা টাকা ফেরত পেয়ে ৫০০ টাকা দুর্গা মন্দিরের উদ্দেশ্যে দান করেন। বাসিন্দাদের একাংশ টাকা পেয়ে বিস্মিত হলেও, কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন যে অর্থ ফেরত মিললেও সেই সময়ের অসহায়তা বা অপমানের অনুভূতি কি আদৌ ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব?
প্রাক্তন কাউন্সিলর রাম সাহার দাবি, তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, দলের প্রয়োজনে ও এলাকার মানুষের স্বার্থেই অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের ‘সম্মান রক্ষার্থেই’ তিনি এই টাকা ফিরিয়ে দিচ্ছেন। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে ‘জনরোষের ফল’ বলে ব্যাখ্যা করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। তাদের দাবি, শুধু কয়েকজন নয়, যাঁদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে টাকা নেওয়া হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককেই অর্থ ফেরত দিতে হবে।
