Cooch Behar | স্পষ্ট করে বলতে পারছে না প্রশাসনও, সাবেক ছিটে শঙ্কা এসআইআর নিয়ে

Cooch Behar | স্পষ্ট করে বলতে পারছে না প্রশাসনও, সাবেক ছিটে শঙ্কা এসআইআর নিয়ে

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


কোচবিহার: সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দাদের এসআইআর কোন নথির ভিত্তিতে হবে, তা নিয়ে সেখানকার গ্রামবাসীরা তো বটেই, প্রশাসনও ধোঁয়াশায় রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এসআইআরের ক্ষেত্রে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকতে হবে। তবে ছিটমহল বিনিময় হয়েছে ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে। স্বাভাবিকভাবেই সেখানকার বাসিন্দাদের তার আগের কোনও সরকারি নথি নেই। তাই এসআইআর নিয়ে গ্রামবাসীদের আতঙ্ক রয়েেছ। কীভাবে সেখানে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, তা মহকুমা তথা জেলা প্রশাসনও স্পষ্টভাবে জানাতে পারেনি।

বৃহস্পতিবার জেলা শাসকের দপ্তরে এসআইআর নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক হয়। সেখানে রাজনৈতিক নেতারা জেলা শাসকের কাছে দাবি জানান, সাবেক ছিটবাসীদের যাতে এসআইআরের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা না হয় তা গুরুত্ব দিয়ে দেখার। বৈঠক সূত্রে খবর, কী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসআইআর হবে তা নিয়ে জেলা শাসকও স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এবিষয়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও জেলা শাসক রাজু মিশ্র ফোন না ধরায় তাঁর বক্তব্য মেলেনি। কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাবেক ছিটবাসীদের এসআইআর হবে, এ প্রশ্নের জবাবে দিনহাটার ভারপ্রাপ্ত মহকুমা শাসক বিজয় গিরির জবাব, ‘এটা আমার জানা নেই।’

এসআইআর ঘোষণা হতেই সাবেক ছিটগুলির বাসিন্দাদের চোখেমুখে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট হচ্ছে। সেখানকার অনেক বাসিন্দার মেয়ের বিয়ে হয়েছে ২০১৫ সালের আগেই। তাঁদের কাছে বাবা-মায়ের সেই সময়ের কোনও নথি নেই। ফলে এসআরআই হলে তাঁদের নাম বাদ পড়বে কি না তা বুঝতে পারছেন না তাঁরা। দিনহাটা-২ ব্লকের সাবেক ছিটমহল পোয়াতুরকুঠির বাসিন্দা সাহেব আলির কথা, ‘যে মেয়েদের আগেই বিয়ে হয়ে গিয়েছে তাঁদের কাছে তো কোনও নথিই নেই। তাঁদের কী হবে? আমরা এসব নিয়ে খুব চিন্তায় আছি।’ একই সুরে জমসের আলি মিয়াঁর কথা, ‘সরকার আমাদের বিষয়টি বিকল্প কোনও উপায়ে দেখুক। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমাদের কারও নাম নেই। কারণ, ২০১৫ সালে ছিটমহল বিনিময়ের পর আমাদের ভোটার কার্ড হয়েছে।’

২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় হয়। ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ তাঁদের স্থায়ী পরিচয় পান। ভারত ও বাংলাদেশ সরকার উদ্যোগী হয়ে তাঁদের নাগরিকত্ব দেন। তবে এসআইআর হলেও সাবেক ছিটবাসীদের কোনও সমস্যা হবে না বলেই দাবি করেছেন ছিটমহল বিনিময়ের আন্দোলনের অন্যতম মুখ তথা বিজেপি নেতা দীপ্তিমান সেনগুপ্ত। তাঁর কথায়, ‘যারা জন্মসূত্রে ভারতীয় তাঁদের ক্ষেত্রে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা প্রয়োজন। তবে সাবেক ছিটবাসীরা জন্মসূত্রে নয়, ছিটমহল বিনিময়ের সময় নিজেরা পছন্দ করে এদেশের নাগরিকত্ব নিয়েছিলেন। তাই তাঁদের ক্ষেত্রে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা বাধ্যতামূলক নয়। এসআইআরের সময় এই বাসিন্দারা নিজেরা একটি হলফনামা জমা করবেন, যেখানে লেখা থাকবে তাঁরা ছিটমহল বিনিময়ের সময় এদেশের নাগরিক হয়েছেন। তাহলেই আর সমস্যা হবে না।’ তবে দীপ্তিমানবাবু এরকম দাবি করলেও প্রশাসনের তরফে এবিষয়ে কিছু না জানানোয় বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেই।

বুধবার সর্বদলীয় বৈঠকের পর বিজেপির বিধায়ক মালতী রাভা বলেছেন, ‘সাবেক ছিটমহলবাসীদের যাতে কোনও সমস্যা না হয় সে বিষয়ে জেলা শাসককে বলা হয়েছে। তিনি বিষয়টি নোট করে নিয়েছেন।’ একই কথা জানিয়েছেন ফরওয়ার্ড ব্লকের জেলা সভাপতি দীপক সরকারও।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *