Cooch Behar | ভূষণের চুক্তি বাতিল রবির, চর্চা কোচবিহারজুড়ে 

Cooch Behar | ভূষণের চুক্তি বাতিল রবির, চর্চা কোচবিহারজুড়ে 

ব্লগ/BLOG
Spread the love


কোচবিহার: প্রয়াত গায়ক শ্যামল মিত্রের ছেলে সৈকত মিত্রের মধ্যস্থতায় এবং তাঁর উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার একটি নির্মাণকারী সংস্থাকে ২০ লক্ষ টাকা ফিরিয়ে দিল কোচবিহার পুরসভা।

পুরসভা ও সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী সংস্থা সূত্রে খবর, বছর ছয়েক আগে একটি নির্মাণকারী সংস্থার  সঙ্গে চুক্তি করেছিল কোচবিহার পুরসভা। সেই চুক্তি অনুযায়ী কোচবিহার পুরসভার ভবনটিকে পিপিপি মডেলে ছয়তলা (জি প্লাস ফাইভ) করার কথা ছিল। যার ৭০ শতাংশ শেয়ার সংস্থার হাতে এবং ৩০ শতাংশ কোচবিহার পুরসভার হাতে থাকত। চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণকারী সংস্থার তরফে কোচবিহার পুরসভাকে ২০ লক্ষ টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ভূষণ সিং বলেন, ‘সে সময় পুরসভার ভবনের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে পড়েছিল। ভবনের বিভিন্ন অংশ ভাঙাচোরা অবস্থায় ছিল। কর্মীদের বসার ও কাজ করার ঠিকঠাক জায়গা ছিল না। গ্যারাজ ছিল না। পুরসভার বিভিন্ন গাড়ি মেরামত করার জায়গা ছিল না। তাছাড়া বিভিন্ন পুরসভাকে দেখেছি পিপিপি মডেলে তৈরি করতে। সে কারণেই পুরসভা ও কর্মীদের স্বার্থে নির্মাণকারী সংস্থার সঙ্গে ওই চুক্তি করেছিলাম। তারা আমাদের পুরসভাকে ২০ লক্ষ টাকা দিয়েছিল।’

বছর তিনেক আগে নতুন বোর্ড আসার পর কোচবিহার পুরসভা সেই চুক্তি বাতিল করে। অবশেষে সৈকত মিত্রের মধ্যস্থতায় এবং তাঁর উপস্থিতিতে এদিন সেই সংস্থাকে তাদের দেওয়া ২০ লক্ষ টাকা ফেরাল কোচবিহার পুরসভা।

চুক্তি বাতিল প্রসঙ্গে বর্তমান চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ‘পুরসভাটা সরকারি সম্পত্তি। কিন্তু ওই চুক্তিপত্রে আমরা এমন কোনও কাগজপত্র দেখতে পাইনি যেখানে সরকারি কোনও অনুমোদন ছিল। তাছাড়া আমাদেরই জায়গার সমস্যা রয়েছে। সেখানে আমরা আমাদের জায়গা অন্য কোনও সংস্থার হাতে কেন তুলে দেব? সে কারণেই আমাদের পুরবোর্ড ওই চুক্তি বাতিল করেছে। এদিন ওই সংস্থাকে তাদের দেওয়া ২০ লক্ষ টাকা দিলাম।’

সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিশ্বজিৎ দাসের কথায়, ‘কোচবিহার পুরসভার ভবনকে পিপিপি মডেলে তৈরি করার জন্য কয়েক বছর আগে পুরসভার সঙ্গে আমাদের একটা চুক্তি হয়েছিল। তাতে আমরা পুরসভাকে ২০ লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম। শেষপর্যন্ত চুক্তি আর এগোয়নি। আমাদের টাকাটাও অনেকদিন ধরে পড়ে ছিল। সে কারণে টাকাটা ফেরত পাওয়ার জন্য পুরসভার কাছে আমরা আবেদন করেছিলাম। পুরসভা আজকে সেই টাকা আমাদের ফিরিয়ে দিচ্ছে।’

এ ব্যাপারে সৈকত বলেন, ‘এই টাকা দেওয়া-নেওয়ার সঙ্গে আমার কোনও যোগ নেই। তবে যে সংস্থা এই টাকা দিয়েছিল, তার প্রতিনিধি আমার ভাইয়ের মতো। তারা বিষয়টি আমাকে বলে। সে কারণে আমি বিষয়টি নিয়ে রবিদার সঙ্গে কথা বলেছিলাম।’

প্রশ্ন উঠছে, বর্তমান পুরবোর্ডে যেসব কাউন্সিলার রয়েছেন, তাঁদের একটা বড় অংশ ভূষণ সিং চেয়ারম্যান থাকাকালীনও কোচবিহার পুরসভার কাউন্সিলার ছিলেন। তাহলে তখন কেনই বা সেই চুক্তি করা হয়েছিল? আর এখন কী কারণে বা সেই চুক্তি বাতিল করা হল? রবি ও ভূষণের মধ্যে সম্পর্ক বরাবরই আদায় কাঁচকলায়। ফলে ভূষণের এই চুক্তি বাতিলের পেছনে কোনও রাজনৈতিক কারণ রয়েছে কি না তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *