কোচবিহার: ভালো নাম ‘ব্ল্যাক সফট শেল’ কচ্ছপ। কোচবিহারে তাদেরই ডাকনাম মোহন। তবে ডাকনামেই তাদের যত নামডাক। এবার সেই বাণেশ্বরের মোহনদের গল্প আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভালের সৌজন্যে উঠে আসবে বিশ্বের দরবারে। ডিসেম্বরে হাওয়াই আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভালে প্রদর্শিত হবে মোহনদের নিয়ে তৈরি করা তথ্যচিত্র ‘দ্য টার্টল ওয়ারিয়র্স’। কোচবিহারের প্রাক্তন পুলিশ সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্য এই তথ্যচিত্রটি তৈরি করেছিলেন।
মোহনকে নিয়ে কোচবিহারের মানুষের বরাবরই একটি আবেগ রয়েছে। বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি জায়গায় এই ‘ব্ল্যাক সফট শেল’ কচ্ছপ পাওয়া যায়। তার মধ্যে কোচবিহার একটি। কিন্তু পথ দুর্ঘটনা ও পাচারের কারণে দিন-দিন এখানে মোহনের সংখ্যা কমে আসছে। বর্তমানে প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার দশা। ২০২৪ সালে কোচবিহারের তৎকালীন পুলিশ সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্যের তৈরি করা সেই তথ্যচিত্রে মোহনের বেঁচে থাকার যুদ্ধের কাহিনী ফুটে উঠেছে। গতবছর ৩০ ডিসেম্বর ২৯ মিনিটের ‘দ্য টার্টল ওয়ারিয়র্স’ নামের তথ্যচিত্রটি মুক্তি পেয়েছিল।
নির্মাতারা জানান, মোহনদের নানা সমস্যা, গাড়িচাপা পড়ে তাদের মৃত্যু, পাচারের মতো ঘটনা ও কীভাবে মোহন সংরক্ষণ করা যায় তা তথ্যচিত্রে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও মোহন রক্ষা কমিটি কীভাবে মোহনের জন্য কাজ করছে তার বর্ণনা রয়েছে তথ্যচিত্রে। প্রায় মাস দেড়েকের বেশি সময় ধরে সেটি তৈরি করা হয়েছিল। তার প্রযোজনা করেন পুলিশ সুপারের সহধর্মিণী রোশনি দাস ভট্টাচার্য। ক্যামেরার দায়িত্ব সামলেছেন প্রশান্ত মোহন্ত। গত শুক্রবার নির্মাতাদের কাছে হাওয়াই ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস কর্তৃপক্ষের তরফে মেল মারফত জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট তথ্যচিত্রটি সেখানে সেমিফাইনালিস্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। এরপর ডিসেম্বরে তা প্রদর্শিত হবে। বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়ে দ্যুতিমান ভট্টাচার্য লিখেছেন, ‘কোচবিহারের বাণেশ্বর মোহনদের নিয়ে আমাদের তথ্যচিত্রটি এবার সুদূর হাওয়াইয়ে। পুরো টিম জিন্দাবাদ।’
তথ্যচিত্রটির ক্যামেরার দায়িত্ব সামলানো প্রশান্ত মোহন্ত উচ্ছ্বাসের সুরে বললেন, ‘এর আগেও আমাদের তথ্যচিত্রটি একাধিক জায়গায় পুরস্কৃত ও প্রশংসিত হয়েছে। হাওয়াই আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভালে নির্বাচিত হতে পারাটা অনেক গর্বের।’ মোহনদের নিয়ে দীর্ঘবছর ধরে কাজ করা মোহন রক্ষা কমিটির সভাপতি পরিমল বর্মন বলেছেন, ‘বাণেশ্বরের মোহন গোটা বিশ্বের সামনে উঠে আসবে এটি অত্যন্ত ভালো বিষয়। মোহনদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্র দুই সরকারেরই উচিত গুরুত্ব দিয়ে আরও বেশি পদক্ষেপ করা।’
পুলিশ সূত্রে খবর, কয়েকবছর আগেও বাণেশ্বর এলাকায় প্রতিবছর ৬০-৭০টি মোহন পথ দুর্ঘটনায় মারা যেত। প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় মোহন রক্ষা কমিটির তৎপরতায় তা অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তবুও মাঝেমধ্যেই মোহনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। বাণেশ্বরের শিবদিঘিতে সবচেয়ে বেশি মোহন রয়েছে। সেখানেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সেই প্রবণতা ঠেকাতে আরও পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন পরিবেশপ্রেমী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
